
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের শেখ নূর উদ্দীন (আবীর) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার বড় ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট, যেখানে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট।
আম্মার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক, আর ফাহিম রেজাও একই সংগঠনের সাবেক সমন্বয়ক ছিলেন।
সহ–সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস (এষা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ ভোট।
আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তবে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা সময় গণণা শুরুর কথা থাকলেও আড়াই ঘন্টা দেরিতে রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয় ভোট গণণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল মিলনায়তনে মেয়েদের মন্নুজান হল থেকে গণণা শুরু হয়। এই ভোট গণণা কার্যক্রম নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের বাইরে এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বড় পর্দায় লাইভ দেখানো হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, রাতভর হাজারো শিক্ষার্থী দুই পর্দার সামনে অবস্থান নিয়ে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। সবশেষ সকাল পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ফলাফল ঘোষণার মধ্যে দিয়ে ১৭ টি আবাসিক হলের ফলাফল ঘোষণা শেষ হয়। কেন্দ্রীয় সংসদের বাইরে হল সংসদেও শিবির মনোনীত প্যানেলের প্রার্থীতা জয়ী হয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকেই বিকাল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চলে ভোট গ্রহণ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবারের রাকসু নির্বাচনে মোট ভোটারের ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছে।
রাকসুর ২৩ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১০টি প্যানেলের ২৪৭ জন প্রার্থী। এছাড়া ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫ পদে ৫৯৭ জন এবং সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী লড়েছেন।
ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ জন ও এজিএস পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৯০১ জন, এর মধ্যে ছাত্রী ১১ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্র ১৭ হাজার ৫৯৬। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ছয়টি নারী হলে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

