উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাজশাহী বিভাগে ভোট পড়েছে ৭১ শতাংশ, সর্বোচ্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জে

‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত ৩৯ আসনেই
উত্তরা প্রতিদিন আমজাদ হোসেন শিমুল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহী বিভাগে ভোট পড়েছে ৭১ শতাংশ, সর্বোচ্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে মোট ভোটারের ৭০.৯৯ শতাংশই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট (৭৩.৪৫ শতাংশ) পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আর কম পড়েছে সিরাজগঞ্জ জেলায় (৬৪.৫৬ শতাংশ)। এছাড়া জয়পুরহাটে ৭৩.৩৪ শতাংশ, নাটোরে ৭৩.২৬ শতাংশ, নওগাঁয় ৭২.৫৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ৭১.৩৯ শতাংশ, বগুড়ায় ৭১.১৫ শতাংশ এবং পাবনায় ৬৮.২৩ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।  

আসনভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে- বগুড়া-১ আসনে ৬২.৪৪ শতাংশ, বগুড়া-২ আসনে ৭২.৬৩ শতাংশ, বগুড়া-৩ আসনে ৭২. ৬৭ শতাংশ, বগুড়া-৫ আসনে ৭১.৫০ শতাংশ, বুগুড়া-৬ আসনে ৭১.০৩ শতাংশ ও বগুড়া-৭ এ ৭১.৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া রাজশাহী-১ আসনে ৭৫.০৬ শতাংশ, রাজশাহী-২ আসনে ৬৩.৮৪ শতাংশ, রাজশাহী-৩ আসনে ৭৭.২৭ শতাংশ, রাজশাহী-৪ আসনে ৭২.২৭ শতাংশ, রাজশাহী-৫ আসনে ৬৮.৯৩ শতাংশ ও রাজশাহী-৬ আসনে ৭০.৯৬ শতাংশ; নাটোর-১ আসনে ৭৪.৫১ শতাংশ, নাটোর-২ আসনে ৭৫.১৫ শতাংশ, নাটোর-৩ আসনে ৭১.৪৬ শতাংশ ও নাটের-৪ আসনে ৭১.৬৯ শতাংশ; নওগাঁ-১ আসনে ৭৭.৫২ শতাংশ, নওগাঁ-২ আসনে ৭৬.৮১ শতাংশ, নওগাঁ-৩ আসনে ৭৩.০৪ শতাংশ, নওগাঁ-৪ আসনে ৭২.৪৪ শতাং, নওগাঁ-৫ আসনে ৬৭.৯৫ শতাংশ ও নওগাঁ-৬ আসনে ৬৭.৪৩ শতাংশ; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ৭৬.৬৫ শতাংশ,  চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ৭৪.৬৮ শতাংশ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ৬৯ শতাংশ; পাবনা-১ আসনে ৭০.৬২ শতাংশ,  পাবনা-২ আসনে ৬২ শতাংশ,  পাবনা-৩ আসনে ৭০.২২ শতাংশ,  পাবনা-৪ আসনে ৭০.৪৭ শতাংশ ও  পাবনা-৫ আসনে ৬৭.৮৪ শতাংশ; জয়পুরহাট-১ আসনে ৭৩.২৫ শতাংশ ও  জয়পুরহাট-২ আসনে ৭৩.৪৩ শতাং এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৬০.৮৩ শতাংশ,  সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ৬৯.৪১ শতাংশ,  সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ৬৭.৫১ শতাংশ,  সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ৭০ শতাংশ, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে ৫৯.৬০ শতাংশ ও  সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ৬০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। 

এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিজ জেলা বগুড়ার সবকয়টি সংসদীয় আসনসহ রাজশাহী বিভাগের ৩৯টির মধ্যেই ২৮টিতেই জয়লাভ করেছেন বিএনপি। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। বিভাগে বাকী ১১টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। 

রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে বগুড়ায় ৭টি আসনের ৭টিতেই বিএনপি, নাটোরের ৪টি, রাজশাহীর ৬টির মধ্যে ৪টি, সিরাজগঞ্জের ৬টির মধ্যে ৫টি, নওগাঁয় ৬টির মধ্যে ৫টি, পাবনায় ৫টির মধ্যে ২টি, জয়পুরহাটের ২টি আসনের ১টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনের ৩টিতেই জয় পেয়েছে জামায়াত। রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। 

অপরদিকে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের সবগুলোতেই  ‘হ্যাঁ” ভোট জয়যুক্ত হয়েছে।  এর মধ্যে রাজশাহীর ৬টি আসনের রাজশাহী-১ আসনে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৫২৫টি, না ভোট পড়েছে ৭৫ হাজার ২৬৮টি। রাজশাহী-২ আসনে হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৮টি, না ভোট ৭৭ হাজার ৬৩১; রাজশাহী-৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮১, ‘না’-তে পড়েছে ৯৬ হাজার ১২৪; রাজশাহী-৪ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২, ‘না’-তে পড়েছে ৬১ হাজার ২২৯; রাজশাহী-৫ আসনে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫৪, না-তে পড়েছে ৭৯ হাজার ১৬৮ এবং রাজশাহী-৬ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৮০৫টি ও না ভোট পড়েছে ৯৫ হাজার ২১২টি।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যে কয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হেরেছেন সেগুলোতে বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম খান পোস্টাল ভোটের কারণেই মাত্র ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী এম. আকবর আলীকে হারিয়েছেন। আসনটিতে ভোট নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৭৯১টি। এখানে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮। 

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এই প্রথম জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি) আসনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী জয়ী হলেন। আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সাবিকুন্নাহার ১৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। আসনটিতে ভোট নষ্ট হয়েছে ৬ হাজার ৫৭৪টি। এখানে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানার সঙ্গে মাত্র ৯ হাজার ৮৮৩ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ জয়লাভ করেছেন। তবে যদি আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিকুন্নাহার ভোট না করতেন তাহলে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল। 

একইভাবে নওগাঁ-২ (পত্নতলা-ধামইরহাট) আসনে নিজ দলের বেশ কয়েকজন নেতার বিরোধিতার কারণে মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খান পরাজিত হন। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে মাত্র ১ হাজার ৮৮৪ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিনকে হারিয়ে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আইন প্রণেতা হয়েছেন। 

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনেও মাত্র ৫ হাজার ৭৬৫ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদারের কাছে হেরেছেন বিএনপির ডি এম ডি জিয়াউর রহমান জিয়া। এছাড়া চাঁপাইনাবগঞ্জের তিনটি ও পাবনার তিনটি আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। 

জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক বলেন, ‘কিছু কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল যেগুলো নিরসনের জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না। আবার দলের কিছু নেতাকর্মীর আবেগের কারণেও রাজশাহী বিভাগের কয়টি আসন অল্পের জন্য ছুটে গিয়েছে। এসব সমস্যা না থাকলে ২-৩টি আসন ব্যতিত বিভাগের সবগুলো আসনেই বিএনপি জয়লাভ করতো।’ এবিষয়ে সামগ্রীক রিপোর্ট দলের হাইকমাণ্ডের কাছে জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে ৭০.৯৯ শতাংশ ভোটার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। রাজশাহী বিভাগে অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। যার মধ্যে ছিল ১০ হাজার সেনাবাহিনী, বিজিবি ৪ হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশ ১ হাজার ৩৭৯৬, আরএমপি ২ হাজার ৪০৫, র‌্যাব ১ হাজার ৬, আনসার ৭২ হাজার ৭৩৬ জন। নির্বাচনে তারা সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এজন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানাই।’

Read more — নির্বাচন
Home