উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাকসুর আলোয় আলোকিত যারা

উত্তরা প্রতিদিন মাইনুল ইসলাম রাজু, রাবি ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
রাকসুর আলোয় আলোকিত যারা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নামগুলো আজও আলো ছড়ায়—তাদের অনেকের যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, অর্থাৎ রাকসু থেকে। শুধু সাংস্কৃতিক বা সংগঠন নয়, রাকসু ছিল নেতৃত্ব গড়ার এক উর্বর ক্ষেত্র। এখান থেকেই গড়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির বহু প্রভাবশালী নেতা।

স্বাধীনতার আগে-পরে রাকসু ছিল রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শুধু পাঠ্যজ্ঞানেই নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতেন এই সংসদকে ঘিরে। সাবেক ছাত্র নেতাদের মতে, ছাত্র সংসদ ছিল মতবিনিময়, চিন্তাচর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। তারা বলেন, পাকিস্তান আমলেও ছাত্র সংসদ নিয়মিত হতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর সেই ধারা টিকে থাকেনি। অথচ সুষ্ঠু রাজনীতি বিকাশে রাকসুর মতো প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য ছিল।

রাকসু থেকে জাতীয় সংসদ : বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫-৬৬ শিক্ষাবর্ষের রাকসুর ভিপি ছিলেন আবু সাইয়িদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের সক্রিয় রাজনীতিক ছিলেন এবং স্বাধীনতার পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩-৭৪ মেয়াদের ভিপি নুরুল ইসলাম ঠান্ডু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ মেয়াদের ভিপি ফজলুর রহমান পটল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ক্রীড়া ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। সত্তরের দশকের জিএস শামসুল হক টুকু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০-৮১ মেয়াদের ভিপি ফজলে হোসেন বাদশা বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য। ১৯৮৯-৯০ মেয়াদের ভিপি রুহুল কবির রিজভী ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও মুখপাত্র।

এ ছাড়াও, নূরুল ইসলাম বুলবুল, যিনি ১৯৯০ সালে শহীদ শামসুজ্জোহা হল সংসদের জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী। আরও একজন উল্লেখযোগ্য নাম রফিকুল ইসলাম, যিনি ১৯৬৬-৬৭ রাকসুর শাহ মখদুম হল সংসদের নির্বাচিত এজিএস ও ভারপ্রাপ্ত জিএস ছিলেন। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।

সাবেক নেতাদের মতে, রাকসুর রাজনীতি ছিল জ্ঞানের আলোয় উজ্জ্বল। তারা বলেন, এখনকার ছাত্র রাজনীতি অনেকাংশে দলীয় প্রভাবে চলে গেছে। ফলে নেতৃত্ব বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্মের ছাত্র রাজনীতি যেন আবারও শিক্ষা, আদর্শ ও নেতৃত্ব বিকাশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে—যেমন ছিল রাকসুর সোনালি দিনে।

১৯৮৯ সালের নির্বাচনে রাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর প্রার্থী রাগিব আহসান মুন্না। তিনি বলেন, “আমাদের সময় নির্বাচন হতো আনন্দঘন পরিবেশে। স্বচ্ছ ভোটে যোগ্য প্রার্থীরাই জিততেন।”

তৎকালীন শাহ মখদুম হল সংসদের এজিএস রফিকুল ইসলাম বলেন, “তখন রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব ছিল না। এখনকার মতো বিলবোর্ড, ব্যানার বা প্রচারণার চাকচিক্য ছিল না। শিক্ষার্থীদের অধিকারই ছিল রাজনীতির মূলমন্ত্র।”

Read more — নির্বাচন
Home