উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মুখর রাবি ক্যাম্পাস

উত্তরা প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০৩ অপরাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মুখর রাবি ক্যাম্পাস

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন। আসন্ন ভোটকে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজে ভাসছে পুরো ক্যাম্পাস। ভোটের আর বাকি মাত্র দুই দিন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণায় মুখর অ্যাকাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, মেস ও আড্ডাস্থল।

প্রার্থীরা দলবেঁধে শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, করছেন কুশল বিনিময়, হাতে তুলে দিচ্ছেন লিফলেট ও হ্যান্ডবিল। শিক্ষার্থীরাও হাসিমুখে গ্রহণ করছেন প্রচারণা, আর চোখেমুখে ফুটে উঠছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোট উৎসবের আনন্দ।

রাকসু নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে ভোটগ্রহণের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। পুনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীরা এখন ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, জানাচ্ছেন প্রতিশ্রুতি ও নানা কর্মপরিকল্পনা।

ক্যাম্পাসজুড়ে প্রার্থীদের নানা ধরনের প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে আকর্ষণীয় ভিডিও; ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিলি করে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা।

সোমবার ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ উপলক্ষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আকর্ষণীয় লিফলেট ও হ্যান্ডবিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

এদিন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজাকে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে ও টুকিটাকি চত্বরে প্রচারণা চালাতে। পাশাপাশি কৃষি অনুষদ, শহীদ মিনার, টিএসসিসি, চারুকলা অনুষদ, পরিবহন মার্কেট ও ইবনে হাইথাম বিজ্ঞান ভবনের সামনে প্রচারণা চালান ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা, বামজোট সমর্থিত ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’, ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’, ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’সহ অন্যান্য প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারণায় অংশ নেন।

প্রচারাভিযান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া সিদ্দিকী রিমি বলেন, “দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হচ্ছে, বলতে গেলে আমরা সৌভাগ্যবান যে আমাদের সময় রাকসু হচ্ছে। ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন-এটা সত্যিই ভালো লাগছে। আমি চাই প্রতিবছরই যেন এ নির্বাচন হয়।”

রবীন্দ্র ভবনের সামনে প্রচারণার সময় সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, “প্রচারণা শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি, তারা আমাদের কথা শুনছেন এবং তাদের সমস্যাগুলো শেয়ার করছেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল হিসেবে শিক্ষার্থীরা আমাদের আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হওয়ায় নির্বাচনী আমেজ আরও বেড়েছে।

১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে কেউ ভোট দিতে পারেনি। এবার অনেকেই জীবনের প্রথম ভোট রাকসুতে দেবেন—এটা আনন্দের। আমাদের প্রধান লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গ আবাসন নিশ্চিত করা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা।”

অন্যদিকে সিরাজী ভবনের সামনে প্রচারণা চালানোর সময় গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদের ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, “প্রচারণা শুরু থেকেই এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা লিফলেট সাদরে গ্রহণ করছে, আমাদের সংগ্রাম চিনছে ও মূল্যায়ন করছে। আমরা স্বল্প লোকবল নিয়েও সবসময় শিক্ষার্থীদের হয়ে কথা বলেছি-তারা সেটি উপলব্ধি করছে।”

একই সময় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে প্রচারণার সময় ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, “আমাদের প্যানেলের বৈচিত্র্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমাদের ভালোভাবে গ্রহণ করছেন, কারণ তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে এবং ভালো সাড়া পাচ্ছি।”

গত রোববার পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশনা দেয়। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, একজন ভোটারকে ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে এসে তালিকায় স্বাক্ষর করে ভিন্ন রঙের ছয়টি ব্যালট পেপার নিতে হবে এবং গোপন বুথে গিয়ে ভোট প্রদান করতে হবে।

প্রথম ব্যালটে থাকবে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদের প্রার্থী তালিকা। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যালটে থাকবে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদের প্রার্থীদের নাম। পঞ্চম ব্যালটে থাকবে সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি এবং ষষ্ঠ ব্যালটে থাকবে হল সংসদের প্রার্থীরা। ভোট শেষ হওয়ার পর সব ব্যালট নিয়ে আসা হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে, যেখানে ওএমআর মেশিনে গণনা শেষে তিন ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

কমিশন জানায়, ৯০০টি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রের চারপাশে ৪০০ গজ দূর পর্যন্ত নিরাপত্তা চৌহদ্দি নির্ধারণ করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “আমরা খুবই আশাবাদী। নির্বাচনী পরিবেশ সুন্দর ও উৎসবমুখর। শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই প্রচারণা চালাচ্ছে—এটা প্রশংসনীয়। ছোটখাটো ব্যত্যয় ঘটলেও বড় কোনো সমস্যা হয়নি। সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।”

 

Read more — নির্বাচন
Home