উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

প্রকৃতির আছে মন ভালো করার আশ্চর্য ক্ষমতা

উত্তরা ডেস্ক ৭ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
প্রকৃতির আছে মন ভালো করার আশ্চর্য ক্ষমতা

ইট-পাথরের এই শহরে, কোলাহল আর ব্যস্ততার জীবনযাত্রায় মানুষের মন কখনো কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের চাপ, দৌড়ঝাঁপ আর যান্ত্রিকতার মধ্যে মন যখন হাঁপিয়ে ওঠে, তখন মানুষ খোঁজে কিছু প্রশান্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে কয়েকদিন কিছু সময় প্রকৃতির মাঝে কাটানো মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে এবং মানসিক যন্ত্রণাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

সেটা হতে পারে পার্কে হাঁটা, কিংবা ২০ থেকে ৩০ মিনিট সবুজ গাছগাছালির সংস্পর্শে নিরিবিলি বসে থাকা। প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য, নির্মল বাতাস আর শান্ত পরিবেশ মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীর-মনে আরাম দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সংস্পর্শে আসলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। উদ্বেগ, বিষণ্ণতা কিংবা ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতি এক অনন্য চিকিৎসক।

সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো কর্টিসল  নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমায়, ফলে মানসিক চাপও হ্রাস পায়। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা’র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “প্রকৃতি আমাদের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিতে সাহায্য করে।” আলস্টার ইউনিভার্সিটির ডক্টোরাল কলেজের পরিচালক অধ্যাপক মারি মার্ফির মতে, “সকালের সূর্যের আলো দেহঘড়িকে ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে, যার ফলে রাতে ভালো ঘুম আসে।”

একঘেয়েমি জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির কাছে যাওয়া যেন এক অনিবার্য ওষুধ। প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছোঁয়ায় শরীর ও মন দুটোই সতেজ হয়ে ওঠে। কাজের উদ্যম, শক্তি আর জীবনের প্রতি ইতিবাচকতা ফিরে আসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে।

সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে আশপাশের কোনো সুন্দর স্থানে ঘুরে আসা হতে পারে এক দুর্দান্ত মানসিক পুনরুজ্জীবন। শহরের ভিড় থেকে একটু দূরে গিয়ে গ্রামের মাটিতে খালি পায়ে হাঁটা, কাদায় ভরা পথে পা ফেলা, বৃষ্টির পানিতে ভেজা কিংবা নদী-পুকুরে সাঁতার কাটা এসবই আমাদের শৈশবের মতো আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে। গাছের ছায়ায় দাঁড়ানো, রোদে শরীর গরম করা, কিংবা পাখির কিচিরমিচির শোনা, এসবের কারণে মুহূর্তে ক্লান্ত মন যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

বিল বা নদীতে নৌকা বেয়ে অনেক দূরে চলে যাওয়া, প্রকৃতির প্রাচুর্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলা এই অনুভূতি অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। বিকেলের নরম আলোয় নদীর স্বচ্ছ জলে নৌকায় বসে থাকলে মনে হয় সময় যেন থেমে গেছে। দু’পাড়ের সবুজ শোভা, ঢেউয়ের কূলকূল শব্দ, মাঝির গান আর জেলেদের জালের টান এসব দৃশ্য ও সুর মনকে নিয়ে যায় এক অন্য জগতে।

নীল পানির অথৈ সাগরের সামনে দাঁড়িয়ে হু-হু বাতাসের ছোঁয়া পাওয়া, সমুদ্রের গর্জন শোনা, পা ভেজানো ঢেউয়ের জল, এ অনুভূতি মানুষের মনকে ভরিয়ে দেয় শান্তি ও প্রশান্তিতে। দূরে ভাসমান সাম্পান আর বিশাল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকে মনে হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এটাই প্রকৃতির মন ভালো করার আশ্চর্য ক্ষমতা।

তাই আমাদের শরীর ও মন সুস্থ রাখতে প্রকৃতি ও পরিবেশের যত্ন নেওয়া  অত্যন্ত জরুরি। আমরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে শান্তি খুঁজি, শক্তি খুঁজি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই প্রকৃতি যেমন আমাদের শান্তি দেয়, তেমনি তার যত্ন নেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। তাই নিজেদের প্রয়োজনে, নিজের অস্তিত্বের জন্যই আমাদের উচিত প্রকৃতিকে যত্নে রাখা কারণ প্রকৃতি বাঁচলে আমরাও বাঁচব।

Read more — লাইফস্টাইল
Home