
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের তারিখ পিছিয়েছে কমিশন। পোষ্য কোটা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের বড় অংশ বাড়িতে অবস্থান করছে। রাকসু নির্বাচনের অধিকাংশ প্রার্থী পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে গেছেন। এতে ক্যাম্পাসে নির্বাচনের আমেজে 'ভাটা' পড়েছে।
ক্যাম্পাস ছুটি হওয়ায় প্রার্থীরা অনলাইন প্রচারে সরব হয়েছেন। বিভিন্ন আঙ্গিকে ভোটারদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করছেন।
স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী সজিবুর রহমান ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করে লিখেছেন, 'পরীক্ষা, বাড়ি, বিয়ার মাঝেও তাদের বন্ধু সজিবের এজিএস থার্টিন (১৩) ভোলেনি।' ভিডিও তে দেখা যায় তাঁর বন্ধু-বান্ধবরা তেরো নাম্বার ব্যালট নিয়ে পড়ার টেবিলে বসে আছে।
প্রচারণার বিষয়ে সজিবুর রহমান বলেন, 'পুজোর ছুটিতে প্রায় সকল শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে গিয়েছে। ফলে প্রার্থীরা অনলাইনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ দারুণ ও ইউনিক ফটোকার্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ফানি ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে চালাচ্ছে প্রচরণা। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছুটির মধ্যেও যেন শিক্ষার্থীরা আমাদের মনে রাখে এবং ভোটের আমেজ টা ধরে রাখা যায়।'
গত রোববার ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারণা চালিয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। পরে তাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা ক্যাম্পাসে অনাহারে থাকা প্রাণীদের মধ্যে খাবার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পাস খোলার আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন প্যানেলটির ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা না থাকায় সরাসরি প্রচারের কার্যক্রম থমকে গেছে। তবে তাঁরা অনলাইনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে অনাহারে থাকা প্রাণীদের খাবার দিচ্ছেন। শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিদিনই বিভিন্ন মন্দিরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ চলমান। প্রার্থীদের অনেকে গ্রামে গেলেও তাঁরা সেখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুশল বিনিময় করছেন।’
সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় চায়ের দোকানে প্রচারণা চালিয়েছেন ‘রাকসু ফর র্যাডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী মারুফ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় প্রচারণা কমেছে। তবে অনলাইনে প্রচারণা চলছে। আমরা মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি।
বন্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রার্থীদের কীভাবে সময় কাটছে জানতে চাইলে ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের প্রায় সবাই ক্যাম্পাসে আছেন। লিফলেট দিয়ে সরাসরি প্রচার হচ্ছে না। তবে আমরা আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। বিকেলে খেলাধুলা করছি। অনলাইন প্রচারণায় মনোযোগ দিয়েছি।’
সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী তাসিন খান ও তাঁর প্যানেলের প্রায় সবাই বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন। তাসিন খান বলেন, নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় আবার নতুন করে প্রচারণায় নামতে হবে। বন্ধের সময়ে তাঁরা এখন অনলাইন প্রচারণায় জোর দিয়েছেন। প্যানেলের প্রার্থীদের অনেকে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন।
‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের অনেকে শিক্ষার্থীদের আড্ডার জায়গাগুলোয় গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন। প্রার্থীদের কেউ কেউ আবার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। আমরা মূলত অনলাইন প্রচারে জোর দিচ্ছি। ছোট ছোট ভিডিও বার্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, ২৫ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ১৮ সেপ্টেম্বর শর্ত সাপেক্ষে প্রশাসন পোষ্য কোটা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ২০ সেপ্টেম্বর জুবেরী ভবনে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যান। এতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ২২ সেপ্টেম্বর জরুরি সভা করে নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
২৪ সেপ্টেম্বর দুই দাবিতে সাত দিনের সময়সীমা দিয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অন্যদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও ইউট্যাব আপাতত কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। অচল ক্যাম্পাস ও ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই বাড়ি চলে যান। ২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি থাকবে এবং ৩ ও ৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। ৫ অক্টোবর থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ দাপ্তরিক কাজ সচল হওয়ার কথা আছে।

