উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

নকল-ভেজাল কৃষি উপকরণ রোধে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান

রাজশাহীতে সিনজেনটা বাংলাদেশ ও বিএজেএফের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা
উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ অপরাহ্ণ
নকল-ভেজাল কৃষি উপকরণ রোধে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান

নকল, ভেজাল ও অননুমোদিত কৃষি উপকরণের বিস্তার রোধে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন, মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি খাতের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকরা। তারা বলেন, এসব উপকরণ কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ ও কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য হুমকি।

গতকাল রোববার রাজশাহীতে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল জার্নালিস্টস ফোরামের (বিএজেএফ) যৌথ উদ্যোগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর আঞ্চলিক সহকারী বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ আবু সাদাত মোহাম্মদ তোয়াব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. গোপাল দাস।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. গোপাল দাস নকল, ভেজাল, অবৈধ ও অননুমোদিত কৃষি উপকরণের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্রপলাইফ এশিয়ার তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পণ্যের ব্যবহার কৃষকের জীবিকা, সরকারি রাজস্ব, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অসাধু চক্রের কার্যক্রম বন্ধে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ জন্য কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের বাণিজ্য কৃষি উৎপাদনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য উপকরণ নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জন কঠিন।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পর্যায়ে থাকা কৃষিপণ্যের রপ্তানি আগামী কয়েক বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে কৃষি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা বলেন, কৃষক দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকদের নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ দিয়ে প্রতারিত করা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। এ সমস্যা মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন এবং রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরি।

সভাপতি কৃষিবিদ আবু সাদাত মোহাম্মদ তোয়াব মানসম্মত বীজ ও অনুমোদিত কৃষি উপকরণ ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে বীজ ও বালাইনাশকের গুণগত মান যাচাই জরুরি। এটি শুধু কৃষকের স্বার্থ রক্ষার বিষয় নয়, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজশাহী কৃষি তথ্য অফিসের টেকনিক্যাল পার্টিসিপ্যান্ট মো. দেলোয়ার হোসেন, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ ম সাজু, রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত এবং দৈনিক উত্তরা প্রতিদিনের সম্পাদক এনায়েত করিম।

বক্তারা বলেন, নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের ঝুঁকি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কার্যক্রম সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। কৃষক ও বিক্রেতাদের পণ্যের সত্যতা যাচাই, লেবেল ও অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রতারণার শিকার হলে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কেও ধারণা দিতে হবে।

সভায় অংশ নেওয়া এক কৃষক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; কৃষকের কাছে এর সুফল পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে কৃষক বাঁচতে পারেন এবং দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অংশীজনদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম ও কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগই নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Read more — কৃষি
Home