
রাজশাহীর বাঘায় গরু চুরির সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করে মারধরের ঘটনায় শিমুল (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শমজান (৪০) নামে আরেক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার রাতে বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর স্কুলের কাছে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে জোতকাদিরপুর স্কুলের কাছে দুই ব্যক্তিকে গরু চুরির সন্দেহে স্থানীয় কয়েকজন আটক করেন। পরে তাদের মারধর করা হয়। এতে শিমুল ও শমজান গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই শিমুলের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহত শিমুল জোতকাদিরপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে। আহত শমজান একই এলাকার নবীন শাহের ছেলে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। গুরুতর আহত শমজানকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত শিমুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো। সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করে নিজেরা শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।

