
সরকারি নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, অনুমোদিত ডিলারের দোকানে ‘সার নেই’ বলা হলেও খুচরা দোকানে বাড়তি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বানেশ্বর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন প্রায় ৩০০ কৃষক। এতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে আটকা পড়ে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
কৃষকেরা জানান, আমন ধানের এ পর্যায়ে সময়মতো সার প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। কয়েক দিন ধরে ডিলারের দোকানে ঘুরেও অনেকে সার পাচ্ছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
বিরালদহ গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে সার কেনার চেষ্টা করছি। অনুমোদিত ডিলারের কাছে সার নেই। অথচ বাড়তি টাকা দিলে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে সার কিনে চাষাবাদ করলে আমাদের বড় লোকসান হবে।’
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার কেনার জন্য সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। চার ঘণ্টা পর ডিলার ওসমান আলী জানান, সার শেষ হয়ে গেছে। সার ছাড়া আমরা কীভাবে ফসল রক্ষা করব? একটি সিন্ডিকেট আমাদের পকেটের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।’
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দিলেও একটি অসাধু চক্র সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। পরে সেই সার খুচরা দোকানে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁরা ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপির সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত দামে দ্রুত সার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন কৃষকেরা। বেলা সাড়ে ১১টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে কৃষকদের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন স্থানীয় সার ডিলার ও রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওসমান আলী। তিনি বলেন, ‘কৃষকেরা ভিত্তিহীন অভিযোগে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয়েছে।’
এলাকায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে ওসমান আলী বলেন, তাঁর কাছে বর্তমানে ১ হাজার ৪০ বস্তা ইউরিয়া রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৫১ টন। এ ছাড়া মজুতে রয়েছে ১ দশমিক ৫ টন ডিএপি, প্রায় ১ টন এমওপি এবং ১ দশমিক ৬৫ টন টিএসপি। তবে মাসের শেষ দিকে ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সারের মজুত কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।

