উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সার মিলছে না, রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষকদের বিক্ষোভ

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ণ
সার মিলছে না, রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষকদের বিক্ষোভ

আমন ধানের মৌসুমে সময়মতো সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রাজশাহীর পুঠিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেন প্রায় তিন শতাধিক কৃষক। এ সময় তারা সরকারি নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খুচরা বাজারে কথিত সার সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানান। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।

কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। অথচ স্থানীয় ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। তাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সোমবার ভোর থেকেই বানেশ্বর বাজারের সার ডিলারের দোকানের সামনে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সার না পাওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে কৃষকেরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মহাসড়কে অবস্থান নেন।

পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমন ধানের গাছে এখন সার দেওয়ার আসল সময়। তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে ঘুরছি। ডিলার বলছেন সার নেই। অথচ খুচরা দোকানে বেশি টাকা দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি দামে সার না পেলে আমাদের চাষাবাদ করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সকাল ১০টার দিকে ডিলার ওছমান আলী জানান, সার শেষ। সার না পেলে জমি রক্ষা করব কীভাবে? সিন্ডিকেট করে কৃষকের পকেট কাটা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।’

আন্দোলনরত কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকার পরও একটি অসাধু চক্র সার আটকে রেখে বাজারে সংকট তৈরি করছে। ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত পরিমাণে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

অবরোধের খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দ্রুত নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সার ডিলার এবং রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওছমান আলী। তার দাবি, তার কাছে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে।

ওছমান আলী বলেন, ‘কৃষকরা ভিত্তিহীন অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। আমার কাছে এখনো ১ হাজার ৪০ বস্তা, অর্থাৎ প্রায় ৫১ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ আছে। ডিএপি আছে দেড় টন, এমওপি প্রায় এক টন এবং টিএসপি ১ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন। তবে মাসের শেষ দিকে এসে নন-ইউরিয়া সারের মজুদ কিছুটা কমে গেছে।’

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে আমন মৌসুমে সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ এখনো কাটেনি।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home