
ইউএনওকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে জনসম্মুখে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া দুই চেয়ারম্যান হলেন কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেরাব জাকারিয়া এবং নাচোল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত ২৪ আগস্ট তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের আওতায় নাচোল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল গত ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হয়।
নিয়োগের ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলে কসবা ইউপি চেয়ারম্যান আল মেরাব জাকারিয়া ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর, মানহানিকর ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি বক্তব্য দেন বলে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাদের এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনিক পরিবেশ ও সরকারি কার্যক্রমের স্বাভাবিক সমন্বয়কে ব্যাহত করতে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইনসম্মত ও জনস্বার্থসঙ্গত নয়। ফলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, দুই ইউপি চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নাচোলের স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে বরখাস্তের বিষয়ে কসবা ইউপি চেয়ারম্যান আল মেরাব জাকারিয়া ও নাচোল সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

