উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাজশাহীতে বিএনপির মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই

বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাসিক প্রশাসক ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন
উত্তরা প্রতিদিন আবু সাঈদ রনি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বিএনপির মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (১ সেপ্টেম্বর)। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি এখন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পথে এগোচ্ছে। রাজশাহী মহানগর বিএনপিতেও চলছে সংগঠন গোছানো, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতির কাজ। তবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও দলে কোনো প্রতিহিংসা নেয় বলে দাবি করেছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেছেন, ‘রাজশাহীতে বিএনপির মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে দলের স্বার্থে আমাদের মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্ব-বিভেদ নেই।’

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক উত্তরা প্রতিদিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, আগামী নির্বাচন, চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে দলের অবস্থান এবং নগর উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

উত্তরা প্রতিদিন: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর মহানগর বিএনপিতে কী পরিবর্তন এসেছে?

মাহফুজুর রহমান রিটন: দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন এসেছে। আমাদের লক্ষ্য বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।

উত্তরা প্রতিদিন: পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে হচ্ছে?

মাহফুজুর রহমান রিটন: খুব দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে, ইনশাআল্লাহ। এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে কিছুটা সময় লেগেছে। আশা করছি, দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হবে।

উত্তরা প্রতিদিন: থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাংগঠনিক দুর্বলতা কীভাবে কাটাবেন?

মাহফুজুর রহমান রিটন: আমাদের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত ত্যাগী ও পরিশ্রমী। আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে তারাই দলের পাশে ছিলেন। তাদের আরও সম্পৃক্ত করে সংগঠনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। কোথাও দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে।

উত্তরা প্রতিদিন: ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

মাহফুজুর রহমান রিটন: যারা দীর্ঘদিন নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। স্থানীয়ভাবে তাদের সম্মান, মর্যাদা ও সাংগঠনিকভাবে যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা করছি। কেউ নিজেকে অবহেলিত মনে করলে তাকেও দলের মূলধারায় কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি। তবে পদ-পদবি নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

উত্তরা প্রতিদিন: নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা কি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রূপ নিচ্ছে?

মাহফুজুর রহমান রিটন: বড় রাজনৈতিক দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবেই। তবে প্রতিযোগিতা আর প্রতিহিংসা এক বিষয় নয়। রাজশাহীতে বিএনপির মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। জেলা ও মহানগর বিএনপি সুশৃঙ্খলভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজ আমি নেতৃত্বে আছি, আগামীকাল অন্য কেউ আসতে পারেন—এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা। দলের স্বার্থে আমাদের মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্ব-বিভেদ নেই।

উত্তরা প্রতিদিন: আগামী স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে মহানগর বিএনপি কতটা প্রস্তুত?

মাহফুজুর রহমান রিটন: বিএনপি সবসময় রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত। আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছি। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সব ধরনের নির্বাচনের জন্যও আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকব। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকব। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা হচ্ছে।

উত্তরা প্রতিদিন: মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে ঐক্য ধরে রাখবেন কীভাবে?

মাহফুজুর রহমান রিটন: মনোনয়ন প্রত্যাশা করা প্রত্যেক নেতার গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাইকে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করা।

উত্তরা প্রতিদিন: বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিতে জড়ালে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

মাহফুজুর রহমান রিটন: এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—জিরো টলারেন্স। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা কোনো অপকর্মের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তরা প্রতিদিন: সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নগরীর প্রধান সমস্যা কী মনে করেন?

মাহফুজুর রহমান রিটন: রাজশাহী নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো জরুরি। এছাড়া, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। নগরীর প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ড্রেনগুলো দীর্ঘদিনের পলি-কাদায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো পরিষ্কার করায় বর্তমানে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে।

রাজশাহীকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জিরো ওয়েস্ট নিয়ে কাজ করছি। বর্জ্য থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নগরীর নিরাপত্তায় স্ট্রিট লাইটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রায় ২১টি খেলার মাঠ নিয়েও কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও কর্মসংস্থানমুখী রাজশাহী গড়ে তোলা।

উত্তরা প্রতিদিন: বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজশাহীর নেতাকর্মীদের জন্য আপনার বার্তা কী?

মাহফুজুর রহমান রিটন: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। শ্রদ্ধা জানাই বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

আমাদের সবচেয়ে বড় বার্তা হচ্ছে—জনগণের জন্য এবং জনগণের সঙ্গে থেকেই রাজনীতি করতে হবে। প্রতিহিংসা, দখলদারি, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো অপকর্মের সঙ্গে বিএনপির রাজনীতির সম্পর্ক থাকতে পারে না। সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিকেল ৪টায় বাটার মোড় থেকে র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ রাজশাহীবাসীকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home