
২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পারিবারিক (কিউ-১) ভিসায় অন্তত ৪ হাজার ২২৬ বাংলাদেশি নারী চীনে গেছেন—সাম্প্রতিক এক কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যে উঠে এসেছে এমন চিত্র, যা মানবপাচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে নারী পাচারের অভিযোগ সামনে আসার পর এই সংখ্যা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ৬৯ জন নারী এই ভিসায় চীন গেলেও পরবর্তী দুই বছরে সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৭ ও ৩৫ জনে। তবে ২০২৫ সালে হঠাৎ করেই এই সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭২১ জনে পৌঁছায়, যা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
গত ২২ আগস্ট ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহায়তায় এবং মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের আয়োজিত কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই জোরদার করতে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় রয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নিবন্ধনের পর বিবাহ সনদ নোটারি পাবলিক, আইন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ধাপে ধাপে সত্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় আইনের সীমাবদ্ধতাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবপাচারকারীরা এখন প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নারীদের লক্ষ্য করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারীসহ সুবিধাবঞ্চিত নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা চলছে।
বিভিন্ন অভিযোগে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি ব্ল্যাকমেইল করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি বাগেরহাটের এক তরুণী অভিযোগ করেছেন, তাকে চেতনানাশক খাইয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চীনে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। পরে সহায়তার মাধ্যমে দেশে ফেরেন।
এদিকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসও অবৈধ ম্যারেজ ব্রোকারদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম পাচার, হুমকি ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ বলছে, অপরাধী চক্র ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভিসা প্রক্রিয়া অপব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

