উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২৪৯৮

উত্তরা প্রতিদিন বিদেশ ডেস্ক ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২৪৯৮

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও দুই হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারি সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৯ টায় জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় মোট ৭৩৪ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬৯ টি পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায়। এরপর নওয়ালপরাসী পূর্বে ১৮৪ টি এবং নওয়ালপরাসী পশ্চিমে ৮২ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গোরখায় ৫৮, নুওয়াকোটে ৫২, ধাদিংয়ে ৫০, তনহুঁতে ৩৬ এবং রসুয়ায় ১৩ টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ভোটেরকোশী ও ত্রিশূলী নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় মূল ঘটনাস্থল থেকে শত শত কিলোমিটার ভাটিতে এসব মরদেহ পাওয়া গেছে।

রসুয়ায় নিখোঁজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ৫৬২ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। এছাড়া নুওয়াকোটে ১১৫ জন এবং মকওয়ানপুরে ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজদের তালিকায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৯৩৩ জন কর্মী, ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং তাদের সঙ্গে ভ্রমণরত ১২৭ জন নেপালি রয়েছেন। এছাড়া ৮৫ জন নিরাপত্তা কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন; যার মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৭ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন।

সরকার জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তি মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২৪২ জন আহত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে মোট ১৯,৮৯৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৮,৩৯৯ জন, পুলিশের ৭,২১৩ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৪,২০৩ জন সদস্য রয়েছেন।

 

কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী এ পর্যন্ত ৮,১৮৬ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে; যার মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে দুই দিন ধরে আটকে থাকা ২৭৯ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারে আরও ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।

মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় মরদেহ শনাক্তকরণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। অশনাক্তকৃত মরদেহগুলো সংরক্ষণের জন্য ২১ টি বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করেছে সরকার। জরুরি নগদ সহায়তা হিসেবে রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় ১০ কোটি রুপি করে এবং ধাদিং জেলায় ৫ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে আরও ৬৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণের জন্য সরকার খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীবোঝাই ৩৭টি ট্রাক পাঠিয়েছে এবং ৭টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। শনিবার উত্তরগয়া ও ধুঞ্চে এলাকায় বিমানে করে ২ টন খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে।

উদ্ধার কাজ ও ভারী যন্ত্রপাতি চালু রাখতে নুওয়াকোটে জ্বালানি মজুত রাখা হয়েছে; যার মধ্যে ৩৬,০০০ লিটার ডিজেল ও ২৪,০০০ লিটার পেট্রোল রয়েছে। উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫,০০০ লিটার অ্যাভিয়েশন ফুয়েল ব্যবহার করা হয়েছে এবং বর্তমানে ১৪,০০০ লিটার মজুত রয়েছে।

 

Read more — আন্তর্জাতিক
Home