
বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতিতে ‘পারস্পরিক স্বার্থ’কে প্রাধান্য দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো সম্পর্ক সফল হতে হলে উভয় পক্ষেরই একে অপরের স্বার্থ অনুধাবন করে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
শনিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরাম’-এ বক্তব্য রাখার সময় জয়শঙ্কর এসব মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাতে ও চাপ সৃষ্টি করতে পাকিস্তান যেভাবে নিয়মিত ও পদ্ধতিগতভাবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করে, বিশ্বের আর কোনো দেশ তা করে না।
তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) দাবির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্ক কার্যকর হতে হলে তা পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এই সম্পর্ক যেন আমাদের উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ফল আনে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি না যে প্রতিবেশীরা কেবল আমার স্বার্থ বিবেচনা করে কাজ করবে। একইভাবে তাদেরও বুঝতে হবে এবং সম্মান জানাতে হবে যে আমাদেরও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। যখন দুই দেশ এই সাধারণ ভূমিতে পৌঁছাতে পারে, তখনই সম্পর্ক মসৃণভাবে পরিচালিত হয়।’
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফর ও আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উভয় পক্ষই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সফর চূড়ান্ত করতে পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়। ঢাকা এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তাকে ফেরত পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে ভারতের কোনো সমর্থন বা ভূমিকা ছিল না।
একই অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছি। তবে পাকিস্তানের বিষয়টি ভিন্ন।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান একটি অনন্য দেশ। কারণ বর্তমান যুগে আর কোনো দেশ নেই যারা প্রতিবেশীকে আক্রমণ ও কোণঠাসা করতে এত সুসংগঠিত এবং ধারাবাহিক উপায়ে সন্ত্রাসবাদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।’

