
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেড নামক পোশাক কারখানায় আজও বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কর্মরত শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে ভূতের আনাগোনার প্রভাবে এমন কাণ্ড ঘটে চলেছে। তবে বেপজা এবং কারখানাটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন তারা পরিদর্শন করে তেমন কোনো বিষয়ের আন্দাজ করতে পারেননি। শনিবারের ছুটির পর
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কর্মসংস্থানে যাওয়ার পর এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পোশাক কারখানার শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেড কারখানার নতুন ভবনের তৃতীয় এবং দ্বিতীয় তলায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা শতাধিক পার হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি দিয়ে দেয়। এছাড়া অসুস্থ শ্রমিকদের ইপিজেডের বেপজা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে আজ সকালে পুনরায় শ্রমিকরা কারখানায় গেলে গতকালের মতোই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কর্মে ফিরে আজও বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন কাণ্ডে আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি করতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারখানা কর্তৃপক্ষ একদিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানায় কর্মরত কয়েক জন শ্রমিক বলেন, গতকাল এক নারী শ্রমিক ভূতের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ভূত দেখার পর ওই শ্রমিক ভিন্ন রকমের আচরণ শুরু করে অসুস্থ হয়ে যান। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আরও অনেক শ্রমিক অসুস্থ হলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
কারখানাটিতে কর্মরত একজন পুরুষ শ্রমিক জানান, আজ সকালে শ্রমিকরা অফিসে এসে কাজ শুরু করার প্রস্তুতিকালে গতকালের মতো একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আজও অন্তত ৫০ এর বেশি শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের তাৎক্ষণিক বেপজা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আজকের জন্য কারখানা ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
বক্তব্যের জন্য ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেড কারখানার জিএম বিল্লাল হোসেন জানান, আজ প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কাজে এসেছিল। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আজও ১৫-২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা আজকের জন্য অফিস ছুটি দিয়ে দিয়েছি। শ্রমিকদের ভূত দেখার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, শ্রমিকরা অনেকে বলছে তারা ভূত দেখেছে। তাদের বলাতো আর বন্ধ করতে পারি না।
কিন্তু আমরা যারা সচেতন মানুষ, তারা ভূতের বিষয়টা কীভাবে বিশ্বাস করি? পাশাপাশি অসুস্থ তো আর এক স্থানে হচ্ছে না, পুরো কারখানার কয়েক স্থানেই হয়েছে। এছাড়া পুরো ইপিজেডের ভেতর শুধুমাত্র আমরাই শ্রমিকদের আরামের ভাবনায় কারখানায় এসি লাগিয়েছি, যাতে গরমে সমস্যা না হয়। মূলত কী থেকে তারা অসুস্থ হচ্ছে সেটা আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হয়নি।
আদমজী ইপিজেডের বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, আজও ৫-৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে যান। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমরা কারখানাটিতে ইডি স্যারসহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সকাল থেকে আমি সেখানেই উপস্থিত ছিলাম। কারখানায় গিয়ে দমবন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসরোধ হওয়ার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি। শ্রমিকরা ভূতের কথা বলছেন, কিন্তু এটা সচেতনদের বোঝার বিষয়। আসলে এটার মূল কারণ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।

