
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক বৈধ প্রার্থী নিয়ে এবার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে চলতি ত্রয়োদশ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে থাকলেও এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম প্রকাশ্যে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘আমি নির্বাচনি কর্তা হিসেবে যে ফল ঘোষণা করব, সেটিই চূড়ান্ত। ভোটের দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। দ্যাট ইজ ফাইনাল।’ গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এসব তথ্য জানান। এদিকে সংসদ সূত্রে জানা গেছে, ফল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ভোটগ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে সিইসি জানান, আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট শেষে সেখানেই গণনা করা হবে এবং প্রকাশ্যে ফল ঘোষণা করা হবে। কতটি ব্যালট ব্যবহার, অব্যবহৃত, বাতিল বা নষ্ট হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন—সব তথ্য জানানো হবে। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
তিনি জানান, ভোটের দিন জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘এটা ভেরি হাই প্রোফাইল একটা ইলেকশন। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে।’ কারণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণে এবারের নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি জানান, ১৩ আগস্ট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে বিএনপির একটি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের দুটি। যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের প্রার্থিতা বহাল রয়েছে।
ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংসদ সচিবালয়, স্পিকার, হুইপ, চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে। ভোটগ্রহণ ও গণনা স্বচ্ছ রাখতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও সম্প্রচার চালু থাকবে। ভোটার সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়ার পর গণনার সময় সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সব সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন। মোট ভোটারের মধ্যে বিএনপি ও সমমনা জোটের ২৪৭ জন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ৯০ জন। দুই প্রধান রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে স্বতন্ত্র এমপি রয়েছেন ১২ জন। এই হিসাবে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

