উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

যে তিন আমলে জীবনে আসে বরকত

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ণ
যে তিন আমলে জীবনে আসে বরকত

জীবনকে সুন্দর ও বরকতময় করতে মানুষ কতই না চেষ্টা করে। কেউ সম্পদের পেছনে ছুটে, কেউ দীর্ঘ জীবনের আশা করে। আবার কেউ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির পথ খোঁজে। অথচ ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত কল্যাণের চাবিকাঠি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলার মধ্যেই নিহিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এমন কিছু আমলের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন, যেগুলো মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনেই কল্যাণ বয়ে আনে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তিনটি বিষয় হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, বেশি বেশি দোয়া করা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।

প্রথম শিক্ষা হলো সিলাতুর রাহিম বা আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা। আজকের সময়ে ব্যস্ততা, ভুল বোঝাবুঝি, সম্পদের দ্বন্দ্ব কিংবা অহংকারের কারণে অনেক পরিবারে সম্পর্কের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। অথচ ইসলাম আত্মীয়তার বন্ধনকে ঈমানি চরিত্রের অন্যতম পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং তার আয়ুতে বরকত হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬)।

এখানে আয়ু বৃদ্ধি বলতে শুধু দিন, মাস ও বছরের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা বুঝানো হয়নি। বরং সীমিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর বরকত, কল্যাণ ও নেক কাজের সুযোগ বৃদ্ধিও বোঝানো হয়েছে। তাই আত্মীয়ের খোঁজ নেওয়া, সম্পর্কের জট খুলে দেওয়া এবং ক্ষমা ও উদারতার মাধ্যমে পারিবারিক বন্ধন রক্ষা করা একজন মুমিনের ইবাদতেরই অংশ।

দ্বিতীয় শিক্ষা হলো দোয়া। দোয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের জ্ঞান সীমিত, পরিকল্পনা সীমিত এবং সামর্থ্যও সীমিত। কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতা সীমাহীন। তাই একজন মুমিন বিপদে যেমন দোয়া করে, তেমনি সুখের সময়ও আল্লাহর কাছেই আশ্রয় খোঁজে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই তাকদীরকে প্রতিহত করতে পারে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯) অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর ফয়সালার মধ্যেই এমন ব্যবস্থা রেখেছেন যে, বান্দার আন্তরিক প্রার্থনা বহু বিপদ দূর করার কারণ হয়। এ কারণেই পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির, আয়াত : ৬০)। যে হৃদয় দোয়া করতে জানে, সে কখনো একা নয়; কারণ তার সবচেয়ে বড় ভরসা আল্লাহ।

তৃতীয় শিক্ষা গুনাহ থেকে বিরত থাকা। আমাদের উচিত গুনাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকা। কারণ পাপ যেমন আখিরাতের শাস্তির কারণ হয়, তেমনি তা দুনিয়ার জীবন থেকেও বরকত কেড়ে নেয়। অনেক সময় মানুষ দেখে উপার্জন বাড়ছে কিন্তু শান্তি নেই; সুযোগ আসছে কিন্তু সফলতা ধরা দিচ্ছে না। এসবের পেছনে গুনাহ একটি বড় কারণ হতে পারে। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা তাওবা ও ইস্তিগফারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর... তিনি তোমাদেরকে প্রচুর সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদী প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নূহ, আয়াত : ১০-১২)। অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ফিরে আসা শুধু আখিরাতের মুক্তির পথ নয়, দুনিয়ার বরকত লাভেরও অন্যতম উপায়।

আজ মানুষ প্রযুক্তিতে উন্নত হলেও সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক অস্থিরতা ও অশান্তি বেড়েই চলেছে। এমন সময়ে নবীর শিক্ষার এই তিনটি দিক আমাদের নতুন করে পথ দেখায়। আত্মীয়তার সম্পর্ককে শক্তিশালী করা, আল্লাহর দরবারে বিনম্রভাবে দোয়া করা এবং গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করার নিরন্তর চেষ্টা করা একজন মুমিনের জীবনে শান্তি, বরকত ও সফলতার ভিত্তি গড়ে তোলে। যে ব্যক্তি এই তিনটি আমলকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানাতে পারে, তার জীবন আল্লাহর রহমতে আলোকিত হয়, পরিবারে আসে প্রশান্তি এবং সমাজে ছড়িয়ে পড়ে সৌহার্দ্য ও কল্যাণের সুবাস।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখার, বেশি বেশি দু'আ করার এবং সকল গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

 

Read more — ধর্ম
Home