উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাকসু নির্বাচনে বিনা ভোটে জয়ী হচ্ছেন ৪২ প্রার্থী

জয়ীদের অধিকাংশই ছাত্রী সংস্থার
উত্তরা প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২০ অপরাহ্ণ
রাকসু নির্বাচনে বিনা ভোটে জয়ী হচ্ছেন ৪২ প্রার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু), হল সংসদ এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ৭টি হল সংসদে ভোট ছাড়াই জয়ী হতে যাচ্ছেন ৪২ জন প্রার্থী।

এর মধ্যে নারী প্রার্থীই ৩৯ জন। বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে ২৯ জন এবং নির্বাহী সদস্য পদে ১৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে চলেছেন।

এদিকে চারটি ছাত্রী হলের হল সংসদ নির্বাচনে চারটি পদে কোনো প্রার্থী দাঁড়ায়নি। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া হলের সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদ ও তিনটি হলে নির্বাহী সদস্য পদে কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি। বিজিত ৩৯ জনের মধ্যে প্রায় সবই ইসলামি ছাত্রী সংস্থার বলে জানিয়েছে সংগঠনটির একটি সূত্র।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. সেতাউর রহমান স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। একক প্রার্থী হওয়ায় তারা বিজয়ী হয়েছেন।

ফাঁকা পদগুলো ফাঁকা রেখেই হলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া হলে। এই হলে ছয়টি সম্পাদকীয় পদে এবং চারটি নির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা ভোটেই জয়ী হবেন। এর পর রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচনে ৯জন প্রার্থী ভোট ছাড়াই জয়ী হচ্ছেন। এই হলে ৬টি সম্পাদকীয় পদে একজন করে প্রার্থী আছেন এবং নির্বাহী সদস্য চারটি পদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী হয়েছেন। তিনজনই জয়ী হচ্ছেন। একইভাবে রহমতুন্নেসা হল সংসদের ৯জন প্রার্থী হচ্ছেন। এ ছাড়া জুলাই-৩৬ হলের ৭জন, তাপসী রাবেয়া হলে ৩জন, ছাত্রদের বিজয়-২৪ হলে ৩জন, মুন্নুজান হলে ১জন। এ ছাড়া রোকেয়া হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, রহমতুন্নেসা হল এবং জুলাই-৩৬ হল ছাত্রী সংসদে একটি করে পদে কোনো প্রার্থী নেই।

জয়ীদের অধিকাংশই ছাত্রী সংস্থার : রাকসু নির্বাচনে ছাত্রীদের ৬টি হল সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ৩৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে- বেগম খালেদা জিয়া হলে মোট ১০টি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা সবাই জয়ী হচ্ছেন। এই হলে বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে মোছা. আশরাফি বুলবুল, সহকারী কমনরুম বিষয়ক সম্পাদক পদে তাসমী তামান্না মীম, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে মোছা. রোকাইয়া খাতুন, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে নাফসে মুতমাইন্না, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে তাহেরা আক্তার, সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সায়মা জাকিয়া, নির্বাহী সদস্য পদে মোছা. উম্মে হাবিবা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদাউস, সুমাইয়া, উম্মে হানী তামান্না খাতুন বিজয়ী হবেন। এ ছাড়া সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী দাঁড়াননি।

রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচনের ৯টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীরা হলেন- সহকারী বির্তক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে তাহমিনা উর্মি, কমনরুম সম্পাদক পদে মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা, সহকারী কমনরুম সম্পাদক পদে আফসানা আক্তার শিফা, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে নাজমুন নাহার সুইটি, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে নাশরিফা তুন নাঈম, সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে রুদবা জাহান। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে রিফা সানজিদা জেদনী, জে. এন. হুমায়রা ও  মোছা. আসনারা খাতুন ভোট ছাড়াই জয়ী হচ্ছেন। নির্বাহী সদস্য পদের বাকি একটি পদে কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি।

রহমতুন্নেছা হলেও ৯জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন। তারা হলেন- বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক পদে রেবেকা সুলতানা, সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক পদে মোছা. সাদিয়া আফরিন, কমনরুম সম্পাদক পদে শামসি আরা, সহকারী কমনরুম সম্পাদক পদে খাদিজা খাতুন, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে মোছা. লাবনী খাতুন, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে তাবাসসুম কবীর, নির্বাহী সদস্য পদে আয়েশা তাসনীম, জান্নাতুল ফেরদৌস ও জেসমিন খাতুন। নির্বাহী সদস্যের বাকি একটি পদে কোনো প্রার্থী নেই।

জুলাই-৩৬ হলে ৭জন প্রার্থী জয়ী হচ্ছেন। তারা হলেন- সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ফাতেমাতুজ সানিহা, সহকারী কমনরুম সম্পাদক পদে জোবাইদা খাতুন, সহকারী ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে উম্মে জাহান, সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে খাদিজা খাতুন। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে হাবিবা খাতুন, সাকিয়া জান্নাত ও জান্নাতুল আফরিন। নির্বাহী সদস্যের বাকি একটি পদে কোনো প্রার্থী নেই।

তাপসী রাবেয়া হলের জয়ীরা হলেন- সহকারী কমনরুম সম্পাদক পদে শাহনাজ আরফিন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মহুয়া মল্লিক জেবা ও সহকারী সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুসলিমা খাতুন। এ ছাড়া মন্নুজান হলে সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ফাইরোজ মোকারমা তুবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামি ছাত্রী সংস্থার এক প্রার্থী বলেন, ‘আমরা মেয়েদের প্রতিটি হলে আমাদের প্যানেল গঠন করেছি। এর মধ্যে সংগঠনের বাইরেও অনেকে প্রার্থী হয়েছে। তবে কয়েকটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় তারা ভোট ছাড়াই জয়ী হয়েছেন।’

অন্যদিকে ছাত্রদের বিজয়-২৪ হল সংসদ নির্বাচনে জয়ী হচ্ছেন ৩ জন। তারা হলেন- বির্তক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে নাজমুল আকতার আকাশ, সহকারী কমনরুম সম্পাদক পদে মুহাম্মদ রিদোয়ানুল ইসলাম ও সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে শাহেদ হোসেন।

চার পদে দাঁড়াননি কোনো প্রার্থী : চারটি হল সংসদ নির্বাচনে চারটি পদে কোনো প্রার্থী দাঁড়াননি। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া হলে সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদ ফাঁকা আছে। এ ছাড়া  রোকেয়া হল, রহমতুন্নেছা হল এবং জুলাই-৩৬ হল সংসদ নির্বাচনের একটি করে নির্বাহী পদ ফাঁকা আছে।  

এ ব্যাপারে রাকসু, হল ছাত্র সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছাত্রদের একটি হলে তিনজন এবং ছাত্রীদের কয়েকটি হলের বিভিন্ন পদে ৩৯ জন নারী প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। আমি তাদেরকে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। চারটি ফাঁকা পদ আছে, সেগুলো ওইভাবে রেখেই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা : এদিকে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে রাকসু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। সকাল থেকেই বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চত্বরে শিক্ষার্থীদের আড্ডার স্থলে গিয়ে জনসংযোগ করছেন, চাচ্ছেন দোয়া।

শিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, 'আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি, তাদের দোয়া চাচ্ছি। শিবির সমর্থিত প্যানেল শুনে শিক্ষার্থীরা আমাদের সাদরে গ্রহণ করছে, বিশেষ করে আমাদের বোনেরা। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সবার কাছে পৌঁছানো কষ্টকর। তারপরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

শাখা ছাত্রদলের প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, 'রাকসুর প্রচারণা শুরুর পর একটা আমেজ তৈরি হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। আমাদের প্যানেল পরিচিতির লিফলেট দিচ্ছি এবং তারা যদি আমাদের যোগ্য মনে করে তাহলে তাদরে কাছে ভোটের দাবি করছি। সামনের কয়েকটি দিন আমরা আরও বেশি চেষ্টা করব শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়ার। সবশেষে রাকসুতে একটি যোগ্য নেতৃত্ব আসবে বলে আমরা আশাবাদী।'

Read more — নির্বাচন
Home