
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি হাটে এসে বিভিন্ন আমের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান ও পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত হাটে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি আমের উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন সফর রাজশাহীর আমকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও পরিচিত করতে সহায়ক হবে।
স্থানীয় কৃষকরাও আশা প্রকাশ করেন, বিদেশি কূটনীতিকদের আগ্রহ দেশের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আম রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি তার প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে ২০২০ সালে তিনি একবার এসেছিলেন। এবার আমের মৌসুমে রাজশাহীতে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল এখানকার বিখ্যাত আমের স্বাদ নেওয়া।
তিনি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন এবং কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখার অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। উৎপাদনস্থলে সবচেয়ে তাজা ও বৈচিত্র্যময় পণ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাওয়া যায়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকানদের কাছেও আম বেশ জনপ্রিয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত হিমায়িত আম বেশি পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন পানীয় ও খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। রাজশাহীর মতো এতটা তাজা আম সেখানে সহজলভ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কোল্ড চেইন বা হিমাগারভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। সারা বছর আমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং হিমায়িত আম রপ্তানি বাড়াতে আধুনিক কোল্ড চেইন অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় পরিসরে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

