
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশেই অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল ঈদ উপহার। ঈদের আগেই এসব উপহার তাদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ঘটেছে ভিন্ন চিত্র। ঈদের পাঁচ দিন পর বিতরণ করায় এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন এলাকার ৪০০ সুবিধাবঞ্চিতের মাঝে এই উপহার হস্তান্তর করা হয়। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই অর্থ বিতরণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত এ উপহার ঈদের আগেই বিতরণের জন্য নির্দেশনা ছিল। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান নির্বাচনী এলাকার বাহিরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। পরে ঈদের পাঁচ দিন পর এ অর্থ বিতরণ করা হলো।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন, কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ এবং গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, জামায়াতের রাজশাহী জেলা শাখার আমীর ও দলীয় মনোনীত গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল খালেক, শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি ও দলীয় মনোনীত গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো. ওবায়দুল্লাহ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার নুমায়ন আলী, গোদাগাড়ী পৌর আমীর মো. আনারুল ইসলাম। গোদাগাড়ী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শওকত আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুবিধাভোগী বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া উপহারের মূল উদ্দেশ্যই হলো উৎসবের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু ঈদের পাঁচ দিন পর এ সহায়তা পাওয়ায় সেটি অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়েছে। ঈদের আগেই এ উপহার পেলে তাদের বেশি উপকার হতো। ঈদের সময় অনেকেই আর্থিক সংকটে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খান। তাই ঈদের পরে উপহার পাওয়ায় এর তাৎক্ষণিক সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তারা মনে করেন। যদিও দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, ‘এটা ঈদের পরে দেয়ার কারণ যখন বরাদ্দটা পাওয়া গেছে তখন লাস্ট ওয়ার্কিং ডে ছিল। আর এটা এমপি মহোদয়কে উপস্থিত রেখে বিতরণ করতে বলা হয়েছে। এমপি মহোদয় তখন বাইরে ছিলেন, উনি বলেছেন যে, ঈদের পরে আসবেন। তানোরে আগামী চার তারিখে (বৃহস্পতিবার) দিবেন।’
তবে সার্বিক বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঈদের খুব কাছাকাছি সময়ে এটা আসছে, মানে ব্যাংক বন্ধ হওয়ার দিন। আবার লোক বাছাই করতে হবে, আমরা যোগ্য লোককে দিতে চেয়েছিলাম। যাকে তাকে দিয়ে আমরা এই কাজ করতে চাই নি। তাই তালিকা সুন্দরভাবে করা হয়েছে এবং তালিকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ আমাদের চলমান। আমরা খুশি কারণ, একটু দেরি হলেও সঠিক লোককে বাছাই করতে পারছি
নির্বাচনী এলাকার বাহিরে থাকায় বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বিলম্বের কারণ আগে থেকে একটা সাংগঠনিক প্রোগ্রাম ছিল, সেখানে আমার আলোচনাও ছিল। আমি বলেছিলাম যে আমাকে ছাড়াই দিয়ে দিয়েন। তারা (প্রশাসন) বলল, ‘আপনাকে ছাড়া আমরা দিব না। আপনার হাত দিয়েই দিব।’

