উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ফুটপাতের খাবারের মানও নিশ্চিত করতে হবে : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ২০ মে ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ণ
ফুটপাতের খাবারের মানও নিশ্চিত করতে হবে : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, হোটেলের খাবারের মান যেভাবে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে, ঠিক তেমনি ফুটপাতের খাবারের মানও নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ হোটেলের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি মানুষ ফুটপাতে খাবার গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, মোড়কজাত পণ্য ছাড়া যেন কোনো দোকানে খাবার বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করতে হবে।

আজ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিএসটিআই একটি জনমুখী ও অ্যাকশন-অরিয়েন্টেড প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। শুধু ওজন নয়, পণ্যের গুণগত মানও শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে মোড়কজাত পণ্যের বাইরে খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া অনেক খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। হোটেলে অভিযান চালানো হলেও ফুটপাতে বিক্রি হওয়া খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

সম্প্রতি ফুচকা খেয়ে একটি পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনাসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, ব্যবসায়ীদের খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্দিষ্ট আইনের আওতায় আসতে হবে। খাবারের ব্যবসায় কোনোভাবেই মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না, কারণ এটি সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে তরমুজ খেয়ে একটি পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের সতর্ক করে। শহরে নজরদারি বেশি থাকায় তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ থাকলেও গ্রামে নামহীন ও অনিয়ন্ত্রিত পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মেট্রিক পদ্ধতি যেন আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য না হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আমেরিকায় এখনো মেট্রিক পদ্ধতি যায়নি। কাজেই মেট্রিক পদ্ধতির জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে আমরা কাজ করব। কিন্তু এটাই যেন একমাত্র লক্ষ্য না হয়। বিএসটিআই’র সকল কাজে আমরা সম্পৃক্ত থাকবো কারণ বিএসটিআই আমাদের পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা দেয়। বিএসটিআই-কে ১৬১১৯ নম্বরে কল করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে তাদের আইন প্রয়োগ করতে সহজ হবে।

সভায় সাংবাদিকদের অনুরোধ করে তিনি বলেন, খাবারের যে সকল অনিয়ম ও ভেজালের খবর আপনাদের কাছে থাকবে সেগুলো তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন। তাহলে আমরা রাজশাহীকে যেমন বসবাসযোগ্য গ্রিন সিটি করেছি তেমনি গ্রিন ফুড সিটিও ঘোষণা করতে পারবো।

বিএসটিআই’র রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জহুরা শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মো. জিয়া উদ্দিন।

এদিকে, অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. আজিজুল হাকিম। এসময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home