
বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপালপাড়াকে মৌপতঙ্গের জন্য ‘পরাগবান্ধব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় স্থানীয় নারী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, নারী, যুবক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা এলাকায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে দেশের সব অঞ্চলকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে কৃষিপ্রতিবেশ ও স্থানীয় কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচির আয়োজন করে বারসিক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও বিলনেপালপাড়া নারী সংগঠন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বারসিক রাজশাহীর সহযোগী প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। তিনি বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছিসহ পরাগবাহী পতঙ্গের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে শুধু কৃষি উৎপাদন নয়, পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষাণী গোলাপজান বেগম বলেন, আগে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মৌমাছি, বোলতা ও উপকারী পোকামাকড় দেখা গেলেও এখন সেগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে।
কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, কীটনাশকের কারণে মৌপতঙ্গ কমে যাওয়ায় পরাগায়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। তিনি প্রাকৃতিক কৃষি ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
আরেক কৃষাণী সুলতানা খাতুন বলেন, বিলনেপালপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে এগ্রোইকোলজি চর্চা, কমিউনিটি বীজ ব্যাংক পরিচালনা এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানির বিষাক্ত কৃষি উপকরণের কারণে মৌপতঙ্গ ও উপকারী জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে নীরব পরাগসংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

