উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

খামারের আয়েই ঘুরছে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা

উত্তরা ডেস্ক ১২ মে ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ণ
খামারের আয়েই ঘুরছে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা

দশ বছর আগে চাতাল ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মাত্র পাঁচটি গরু নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচশিরা এলাকার আলী আনছার। এক দশকের ব্যবধানে আজ তার খামারে গরুর সংখ্যা ১৯টি।

প্রতিদিন ৮টি গাভি থেকে পাওয়া ৭০-৮০ লিটার দুধ বিক্রি করে খামারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি একেকটি গরু দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করে এখন তিনি সফল খামারি।

আলী আনছারের মতো জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও সদর উপজেলার হাজারো মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দিয়েছে পশুপালন। খামারকে কেন্দ্র করেই এখন এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী নতুনহাট ও পাঁচবিবি পশুর হাটসহ ১০টি স্থায়ী ও ১৭টি অস্থায়ী হাটে ১৩টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জয়পুরহাটে কোরবানির পশুর জোগান লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলায় ২৬ হাজার খামারে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা ২ লাখ ৩ হাজার হলেও উদ্বৃত্ত থাকছে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার পশু। এই বিপুল পরিমাণ পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় হাটে পাঠাবেন খামারিরা।

কালাই পৌরসভার থুপসাড়া মহল্লার নারী খামারি ছালেমা খাতুন গরু পালন করেই নিজের ভাগ্য বদলেছেন। খামারের আয়েই তিনি ইটের পাকা বাড়ি করেছেন, জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছেন এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন।

অন্যদিকে, পাঁচবিবির সরাইল-মোহাম্মদপুর এলাকার এ এন মহি উদ্দিন ১২০টি গরু নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল বাণিজ্যিক খামার। খামারিরা এখন ক্ষতিকর রাসায়নিকের বদলে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, ভুট্টা ও খৈল খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

পশুপালনকে ঘিরে জেলায় গোখাদ্য বিক্রেতা, পশুচিকিৎসক, বাঁশ-দড়ি ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের আয় এখন তুঙ্গে। গোখাদ্য ব্যবসায়ী জালাল উদ্দীন জানান, কোরবানির সময় খাদ্যের চাহিদা ও বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মহির উদ্দিন বলেন, নিরাপদ মাংস উৎপাদনের পাশাপাশি এই খাত গ্রামীণ পরিবারে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়াচ্ছে।

এ বছর জয়পুরহাটে কোরবানির পশুর জোগান লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলায় ২৬ হাজার খামারে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী নতুনহাট ও পাঁচবিবি পশুর হাটসহ ১০টি স্থায়ী ও ১৭টি অস্থায়ী হাটে ১৩টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। হাটে ডিজিটাল ওজন ব্যবস্থা ও গবাদিপশুর জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

সাফল্যের মাঝেও গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকট নিয়ে চিন্তিত খামারিরা। ক্ষেতলালের খামারি হাশেম আলী মনে করেন, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং হাটে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা গেলে এই খাত আরও শক্তিশালী হবে।

কালাই সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল ওহাব সাখিদার বলেছেন, পশুপালননির্ভর এই উদ্যোক্তা অর্থনীতি গ্রামের শিক্ষিত যুবক ও নারীদের স্বাবলম্বী করছে, যা স্থানীয় বাজারব্যবস্থাকে টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home