উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ইতিহাসে দুই মাসে কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়েছে কি না—নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন

উত্তরা ডেস্ক ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ণ
ইতিহাসে দুই মাসে কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়েছে কি না—নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন

 

ইতিহাসে আর কোনো সরকার দুই মাসের ব্যবধানে এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান–এ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের জাতীয় সমাবেশ’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের গণরায়’ দাবিকে কেন্দ্র করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল এবং স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংস্কারের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিল। তবে তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিএনপি বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ঐকমত্য কমিশনে গিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।

তিনি বলেন, 'যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, সেই দলই এখন গণভোটকে অস্বীকার করছে—এটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট বিরোধাভাস।

সরকারের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা অস্বীকার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার দরজা সরকার নিজেরাই বন্ধ করে দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় স্বার্থে তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগ আর রাখা হয়নি।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি সতর্ক করে বলেন, দলটি যদি অতীতের মতো পথে এগোয়, তাহলে জনগণ ও তরুণ সমাজ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখন জনগণের মধ্যেই ঘুরছে।

নাহিদ ইসলাম জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের দাবিতে তারা সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১-দলীয় রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতারা।

Read more — রাজনীতি
Home