উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

‘লাশের সারিতে গিয়ে অনেক লাশ দেখেছি, আমার ছেলেকে পাইনি’

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর
উত্তরা ডেস্ক ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ণ
 ‘লাশের সারিতে গিয়ে অনেক লাশ দেখেছি, আমার ছেলেকে পাইনি’

‘১৩ বছরেও আমার ছেলের খোঁজ মেলেনি। বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ করতাম প্রতিদিন; এই বুঝি আমার ছেলেকে খুঁজে পাব। কিন্তু এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে কেবল ঘুরে বেড়িয়েছি, লাভ হয়নি। সাভার অধর চন্দ্র স্কুলের লাশের সারিতে গিয়ে অনেক লাশ দেখেছি। কিন্তু আমার ছেলের মরদেহ পাইনি।’

কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিক সুরুজ মিয়ার মা জোসনা বেগম।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে এসে ছেলে সুরুজের কথা স্মরণ করে জোসনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিখোঁজ সুরুজ মিয়া সাভার পৌর এলাকার সিআরপি মহল্লার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।

জোসনা বেগম বলেন, আমার ছেলে রানা প্লাজার ৬ষ্ঠ তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় ফিনিশিং অপারেটর পদে চাকরি করত। ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজায় ফাটল দেখা দেয়। পরের দিন আমার ছেলে চাকরিতে যেতে চায়নি। কিন্তু মালিকপক্ষ চাকরিতে গেলে বেতন দেবে না বলে জানায়। পরে বাধ্য হয়ে আমার ছেলে সকালে কারখানায় যায়। রানা প্লাজা ভাঙার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এখানে আসি। অনেকেই জীবিত উদ্ধার হয় আবার অনেকের লাশও উদ্ধার হয়। কিন্তু আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাই না। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যাই, কিন্তু আমার ছেলের খোঁজ পাইনি। সাভার অধর চন্দ্র স্কুলে রানা প্লাজায় নিহতদের লাশ রেখেছিল। সেখানে একটি লাশ আসত আর দৌড়ে গিয়ে দেখতাম, কিন্তু আমার ছেলের লাশ পাইনি.... বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

 

নিখোঁজ সুরুজের ভাই সুজন মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও আমার ভাইয়ের স্মৃতি ভুলতে পারিনি। ২৪ এপ্রিল সকালে লাল গেঞ্জি, সাদা-কালো চেক শার্ট আর কালো প্যান্ট পরে কারখানায় গিয়েছিল। ভবন ভাঙার খবর পেয়ে হেঁটে হেঁটে রানা প্লাজার সামনে আসি। আমার ভাই যে ফ্লোরে কাজ করত সেই ফ্লোরে উদ্ধারকর্মী সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে উদ্ধারের জন্য অনেকবার বলেছি। তারা শুধু বলেছে, আমরা অক্সিজেন, খাবার ও পানি দিচ্ছি। কিন্তু উদ্ধার আর করেনি। দিনের পর দিন পার হয়েছে, আমার ভাইয়ের আর খোঁজ পাইনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ৯ তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এতে ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক নিহত হন। এ ছাড়া প্রায় আড়াই হাজার পোশাক শ্রমিক আহত হন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

 

Read more — সারাদেশ
Home