
প্রশ্ন: বালতির পানিতে হাত ডুবিয়ে অজু করলে কি অজু হবে? একজন আমাকে এভাবে অজু করতে দেখে বলেছেন, এভাবে অজু করলে অজু হবে না। কারণ পানিতে হাত ডোবানোর কারণে পানি ব্যবহৃত হয়ে যায় আর ব্যবহৃত পানি দিয়ে অজু হয় না।
উত্তর: বালতিতে বা অন্য কোনো পানির পাত্রে হাত ডুবিয়ে অজু করলে অজুর সমস্যা হবে না। কারণ অজু করার জন্য পাত্রের ভেতর হাত দিয়ে পানি নিলে তা মায়ে মুস্তামাল বা ব্যবহৃত পানি হয়ে যায় না। তবে হাত পানিতে ডোবানোর আগে ধুয়ে নেওয়া উচিত যদি হাতে কোনো নাপাকি নাও থাকে। আর হাতে যদি নাপাকি থাকে তাহলে পাত্রের ভেতর হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে পাক করে নিতে হবে। অপবিত্র হাত পানির পাত্রে দিলে পাত্রের পানিও অপবিত্র হয়ে যাবে।
নবীজি (সা.) অনেক সময় পানির পাত্রে হাত ডুবিয়ে অজু করেছেন। আতা ইবনে ইয়াজিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ওসমানের (রা.) আজাদকৃত দাস হযরত হুমরান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি দেখেছেন, একদিন হজরত ওসমান (রা.) পানির পাত্র আনালেন এবং দুই হাতের ওপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে তিনবার তা ধৌত করেন। তারপর ডান হাত দ্বারা পাত্র থেকে পানি উঠিয়ে কুলি করেন, নাকে পানি দেন ও নাক ঝাড়েন। এরপর তিনবার চেহারা ধৌত করেন এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন। তারপর মাথা মাসাহ করেন এবং প্রত্যেক পা তিনবার ধৌত করেন। এরপর বলেন, আমি নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার এই অজুর মত অজু করতে দেখেছি। (সহিহ বুখারি: ১৬৪)
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, ইয়াহইয়া (রহ.) বলেন, আমি একদিন আমর ইবনে আবী হাসানের (রহ.) সঙ্গে ছিলাম। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদকে (রা.) নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) একটি পানির পাত্র আনান এবং তাদেরকে অজু করে দেখান। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের ওপর পানি ঢেলে উভয় হাত তিনবার ধৌত করেন। অতঃপর পাত্রের মধ্যে হাত প্রবেশ করান এবং তিন অঞ্জলি পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়েন। তারপর আবার পাত্রে হাত ডুবিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে হাত ডুবিয়ে পানি নিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। তারপর আবার পাত্রে হাত ডুবিয়ে উভয় হাত দ্বারা মাথার সামনের অংশ ও পেছনের অংশ মাসাহ করেন। তারপর পাত্রে হাত ডুবিয়ে উভয় পা ধৌত করেন। (সহিহ বুখারি: ১৯২)

