উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

উত্তোলনের অনুমতি নেই, চুনাপাথর সংকটে বন্ধ সিমেন্ট উৎপাদন

উত্তরা ডেস্ক ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
উত্তোলনের অনুমতি নেই, চুনাপাথর সংকটে বন্ধ সিমেন্ট উৎপাদন

প্রাকৃতিক উৎস (খনি) থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে চুনাপাথর উত্তোলনের অনুমতি না থাকায় বাড়ছে সংকট। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদন কাজ বন্ধ রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলে চুনাপাথরের খনি থাকলেও সেখান থেকে পাথর উত্তোলনের সুযোগ নেই। সিমেন্ট তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কাঁচামালের সংকটে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সিমেন্ট উৎপাদন। বিঘ্ন ঘটছে বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাজেও।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটনের দোহাই দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন অসহযোগিতা প্রদর্শন করছে। তারা মানছেন না উচ্চ আদালতের নির্দেশনা। এদিকে, এ সমস্যার সমাধান পেতে রোববার সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছে জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আফছার উদ্দিন।

গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের অন্যতম অংশীজন আফছার এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতার প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় অবস্থিত তাদের কোম্পানির জায়গা থেকে চুনাপাথর উত্তোলনে সহযোগিতা করতে সরকারের সহায়তা দরকার। খনি চালু হলে একদিকে যেমন চুনাপাথরের সংকট কাটবে, অন্যদিকে লোকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আফছার উদ্দিন জানান, ১৯৭২ সালে গোয়াইনঘাটের চৈলাখাল মৌজার তৃতীয় খণ্ডের জাফলং এলাকায় অবস্থিত ৬ একর ৭৫ শতক এবং পরে আরও ৭৮ একর ২৭ শতক জায়গা সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয় জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স। সরকার খনিজ উত্তোলনের জন্যই জায়গা ইজারা দেয়। প্রকল্প থেকে চুনাপাথরও উত্তোলন করা হয়। পরে প্রশাসন বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এতে প্রকল্প বন্ধ হয়ে পড়লে ২০০৭ সালে উচ্চ আদালত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে চুনাপাথর উত্তোলনে কোনো বাধা না দিতে নির্দেশনা দেন। সর্বশেষ খনিজ ব্যুরো ইজারা বাতিল করলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত ২০২০ সালে ইজারা বাতিলের চিঠি অবৈধ বলে আদেশ ও ভোগদখল বজায় রাখতে স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়া হয়।

আফছার উদ্দিন জানান, বিগত কয়েক বছর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আদালতের সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না; বরং তারা নানাভাবে অভিযানের নামে জরিমানা ও হয়রানি করেন। এখনও সেখানে আওয়ামী লীগের দোসররা রয়েছেন। তাদের কোম্পানির জায়গায় পর্যটনের নামে ব্যবসা করা হচ্ছে। অথচ তাদের সেখানে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধেও তিনি অসহযোগিতার অভিযোগ করেন।

আফছার জানান, সিলেটের সিমেন্ট কোম্পানিগুলো ভারত থেকে চুনাপাথর আমদানি করছে। কাঁচামাল হিসেবে এসব চুনাপাথরের মজুত থাকার পরও উত্তোলন করা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে বিভিন্ন মহল এসব করতে দেয়নি। বেশ কিছুদিন ধরে চুনাপাথর ভারত থেকে আমদানি করতে পারছে না প্রাচীন প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি। তারা একসময় সুনামগঞ্জের টেকেরঘাট থেকে চুনাপাথর আমদানি করত। পরে সেখানে মজুত না থাকায় ভারত থেকে রুজ্জুপথে আমদানি শুরু করে। তবে ভারত অংশে রুজ্জুপথ বন্ধ থাকায় আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের বৃহৎ কারখানা ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি চুনাপাথর সংকটে সিমেন্ট উৎপাদন করতে পারছে না।

জালালাবাদ লাইম কর্তৃপক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের কাছে জাফলং এলাকার চুনাপাথর খনি চালু করতে ও মালিকানা জায়গায় যাতে কেউ হস্তক্ষেপ না করতে পারে, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন, মাহিন মোসলেহ, শহীদুল্লাহ কায়সার. ফয়সল আহমদ ও সাহিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, জায়গাটি পর্যটন কেন্দ্রের। সেই এলাকা ইসিওভুক্ত। সেখানে খনিজ কীভাবে উত্তোলন হবে? এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা থাকবে।

 

Read more — সারাদেশ
Home