
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত ছেলের লাঠিপেটায় আব্দুল আলীম ওরফে ছেনু মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর কুশাগাজী বাড়িতে এ ঘটনা।
নিহত আব্দুল আলীম ওরফে ছেনু মিয়া (৭০) দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর গ্রামের কুশাগাজী বাড়ির মৃত আকামত আলীর ছেলে। তিনি একটি কোম্পানিতে গার্ড হিসেবে চাকরি করতেন। ঘাতক রাসেল আহমেদ নিহতের বড় ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মাদকের টাকার জন্য নিহতের বড় ছেলে রাসেল আহমেদ প্রায়ই তার বাবাকে মারধর করতেন। কিছুদিন আগেও ঘাতক রাসেল তার বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। শনিবার সকালে নিহত ছেনু মিয়া ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেখেন, নিজ হাতে লাগানো গাছ জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি কাটার প্রস্তুতি নেন।
এ সময় বাধা দিলে জাহাঙ্গীর আলম নিহত ছেনু মিয়ার ছেলে রাসেলের কাছে বিচার দেন। এ নিয়ে রাসেল তার বাবার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। রাসেলকে না জানিয়ে জমি বিক্রি ও টাকার ভাগ না দেওয়ায় দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে রাসেল তার বাবাকে পিটিয়ে আহত করে।
পরে তার বাবা দা নিয়ে রাসেলকে ধাওয়া করলে রাসেল আঘাত পায়। ক্ষুব্ধ রাসেল পুনরায় তার বাবাকে বেধরক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় কৃষক আলী হোসেন বলেন, ছেনু মিয়ার ছেলেগুলো কেউ মানুষ হয়নি, ছোট ছেলেটাকে বিদেশ পাঠিয়েছে। বাকি তিন ছেলে মাঝে মাঝে রাজমিস্ত্রির কাজে গেলেও বাবার আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্কুলশিক্ষক জানান, ছেনু মিয়ার তিন ছেলেই মাদকাসক্ত। এটা ধামাচাপা দিলে তাদের হাতে নিরীহ মানুষও খুন হতে পারে। তাই তার বিচার হওয়া দরকার।
ছেনু মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৬০) বলেন, আমার ছেলে রাসেলই তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গাছ কাটা নিয়ে বাবা-ছেলের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি হয়। মারামারির পর হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করতে হবে। নিহতের শরীরে লাঠিপেটার দাগ ছিল।
এমএম

