
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বলেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেবে। (বুখারি, ১২)। আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কোনো শোকরও না। আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি। সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা। (সুরা দাহর, ১১)।
মানুষ বলবে ওমুক ব্যক্তি খাওয়ায়। কতই না ভালো। এমন সুনাম অর্জনের জন্য খাওয়ালে তা কাজে আসবে না। খাওয়াতে হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। প্রশংসা, প্রতিদান মানুষের কাছ থেকে আশা করা যাবে না। আবার কাউকে খাইয়ে তাকে খোটা দেওয়া যাবে না। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের দান-সদকা এমনভাবে নষ্ট করো না যে, কারও উপকার করার পর তাকে খোটা দাও বা তাকে কষ্ট দাও।’ (সুরা বাকারা, ২৬৪) অর্থাৎ, খাইয়ে দেওয়া, সাহায্য করা— এসব আল্লাহর নেক কাজ; কিন্তু এরপর সেই উপকারের কথা বলে অপমান করলে সেই সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়।
কাউকে খাইয়ে তার থেকে সুবিধা নেওয়া যাবে না। যতটুকু সামর্থ্য আছে, তাই দিয়ে মানুষকে খাদ্য খাওয়াতে হবে। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘খাদ্য দান করো দুর্ভিক্ষের দিনে। এতিম আত্মীয়স্বজনকে। অথবা ধূলি-মলিন মিসকিনকে। অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যারা ঈমান এনেছে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্যধারণের, আর পরস্পরকে উপদেশ দেয় দয়া-অনুগ্রহের। তারাই সৌভাগ্যবান।’ (সুরা বালাদ, ১৮)।
হাদিসে উত্তম মানুষের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা উত্তম মানুষ যারা মানুষকে খাওয়ায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম মানুষ তারা, যারা মানুষকে খাবার খাওয়ায়।’ (মুসনাদে আহমদ, ২৩৯৭১)।
ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের খাদ্যদানকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে ধন্য হবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা বলে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদের আহার্য দান করি, তোমাদের নিকট এর কোনো প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও কামনা করি না।’ (সুরা দাহর, ৯) । তাই যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষের অন্নের ব্যবস্থা করতে হবে—এটাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ কোরআনে দাসমুক্তি, ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান, ইয়াতিম ও অভাবগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানোকে সৎকর্মের শ্রেষ্ঠ পথ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

