
‘বিএনপি একমাত্র দল, যেখানে সব মানুষ বিএনপির পতাকাতলে স্থান নিতে পারবে, আশ্রয় নিতে পারবে। এই সমন্বয়ের রাজনীতি আমাদেরকে করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (১২ সকালে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এরকম মন্তব্য করেন।
ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগ ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির ষষ্ঠদিনের এই অনুষ্ঠান হয়। এতে সারা দেশ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা অংশ নেন।
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি সফল ঘোষণা গতকালকে হয়েছে। যেটাকে আমরা নির্বাচনী তফসিল বলছি। এই তপসিল ঘোষণায় অনেকে ভারাক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু স্বাগত জানাতে বাধ্য হয়েছে। আমরা স্বাগত জানিয়েছি, সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছি। আমরা বলেছি, এজন্যই গণ-অভ্যুত্থানের যত প্রত্যাশা, তার মধ্যে প্রধান ও প্রাথমিক প্রত্যাশা ছিল জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য এই তপসিল ঘোষণা করা।”
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা, বিএনপির গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হচ্ছে গণমানুষের গণতান্ত্রিক সংজ্ঞা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সকল মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের পরিচয়ে, এদেশের সকল শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি, ভাষা সব মানুষের সমন্বয়ে…. বিএনপি একটা সমন্বয়ের রাজনীতির পাঠশালা।’
‘বিএনপি একমাত্র দল যেখানে সব মানুষ এই বিএনপির পতাকাতলে স্থান নিতে পারবে, আশ্রয় নিতে পারবে। এই সমন্বয়ের রাজনীতি আমাদেরকে করতে হবে। আমরা কখনো ধর্মের নামে রাজনীতিতে বিভক্তি আনতে চাই না, করবো না। আমরা ধর্ম, বর্ণ এবং বিভিন্ন ভাষা বা সে সংস্কৃতির নামে আমরা কখনো বিভাজন জাতিতে সৃষ্টি করতে চাই না। সব মানুষেরই সাংবিধানিক পরিচয় হচ্ছে নাগরিক বা সিটিজেন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিত হবে।’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এই সুখের দিনে একটি বিষয় প্রায়ই ভুলে যাচ্ছি অতীতের বেদনাবিধুর গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা। আমরা ইদানীং ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কুকীর্তির কোনো কথাই আমাদের বক্তব্য বিবৃতিতে বলছি না। একটি দল আওয়ামী লীগের ভোট প্রাপ্তির জন্য আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করে না। আমাদের গ্রামের ভাষায় কথা বলে যে, ‘ভাশুরের নাম মুখে নেওয়া যায় না’। এখন সেই দলটি আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য তাদের যে ভূমিকা সেটা জনগণের সামনে উন্মোচন করেছে।
যারা গাড়ির চাকায় পৃষ্ঠ করে আমার ছাত্র বন্ধু ও আমাদের গণ মানুষকে পৃষ্ঠ করেছে সেই কথা যেন আমরা কখনো ভুলে না যাই। আমরা যদি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা ভুলে যাই আওয়ামী লীগের গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা, হামলার কথা ভুলে যাই তাহলে গণতন্ত্র আহত হবে।’
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্ব ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খানের সঞ্চালনায় ছাত্র দলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও বক্তব্য রাখেন।

