
‘শিরক একটি মহাপাপ, যা আল্লাহতায়ালা তওবা ছাড়া ক্ষমা করেন না।’ (সুরা নিসা, ৪৮)। শিরক মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়া কিয়ামতের আলামত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কিয়ামত আসবে না, যে পর্যন্ত না আমার উম্মতের কিছু গোত্র মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত হবে এবং আমার উম্মতের কিছু গোত্র মূর্তিপূজা করবে।’ (আবু দাউদ, ৪২৫২)
অন্যত্র তিনি বলেন, ‘কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না দাউস গোত্রীয় রমণীদের নিতম্ব যুল-খালাছা মূর্তির চারপাশে আন্দোলিত হবে। যুল-খালাছা একটি মূর্তি ছিল, দাউস গোত্রীয় লোকেরা প্রাক-ইসলামি যুগে তাবালা নামক স্থানে এর পূজা করত।’ (বুখারি-৭১১৬) তিনি আরও বলেন, ‘রাত দিন খতম হবে না, (কিয়ামত হবে না) যতক্ষণ না লাত ও উযযা দেবতার পূজা (পুনরায় আরম্ভ) করা হয়।’ এ কথা শুনে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.)! পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তিনিই সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসুলুল্লাহ (মুহাম্মাদ)-কে প্রেরণ করেছেন পথনির্দেশ ও সত্য দ্বীনসহকারে। যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপরে বিজয়ী করে দেন। যদিও অংশীবাদীরা এটা পছন্দ করে না।’ (সুরা ছাফ: ০৯)।
এ আয়াত নাজিলের পর আমি তো মনে করছিলাম যে, এ ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি স্বচ্ছ বায়ু প্রবাহিত করবেন। ফলে যাদের হৃদয়ে দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে তাদের প্রত্যেককেই তুলে নেওয়া হবে। অবশেষে যাদের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই তারাই কেবল বেঁচে থাকবে। তখন তারা পূর্বপুরুষদের ধর্মে ফিরে যাবে।’ (মুসলিম, ২৯০৭)
এই শিরক এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যে, লোকেরা বুঝতেও পারবে না। নিজের অজান্তেই মানুষ এই মহাপাপে জড়িয়ে পড়বে। সে জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) জাতিকে সতর্ক করেছেন। মা‘কেল বিন ইয়াসার (রা.) বলেন, ‘আমি আবুবকর ছিদ্দীক (রা.)-এর সঙ্গে নবি করীম (সা.)-এর নিকটে গেলাম। তিনি বলেন, হে আবুবকর! নিশ্চয়ই শিরক পিপীলিকার পদচারণা থেকেও সন্তর্পণে তোমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
আবুবকর (রা.) বলেন, কারও আল্লাহর সঙ্গে অপর কিছুকে ইলাহরূপে গণ্য করা ছাড়াও কি শিরক আছে? নবি করীম (সা.) বললেন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম। আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব না, যা তুমি বললে শিরকের অল্প ও বেশি সবই দূর হয়ে যাবে? তিনি বলেন, তুমি বল, হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সঙ্গে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই।’ (আদাবুল মুফরাদ, ৭১৬)

