উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

অফিসকে বাসাবাড়ি বানিয়ে থাকছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সমালোচনার ঝড়

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
অফিসকে বাসাবাড়ি বানিয়ে থাকছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সমালোচনার ঝড়

বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান  নিজ অফিসকেই বাসাবাড়ি বানিয়ে থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সরকারি নিতীমালায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো কোয়ার্টার বরাদ্দ না থাকলেও তাদেরকে বাড়িভাড়া হিসেবে মূল বেতনের ১৬ শতাংশ দেওয়া হয়ে থাকে। নিজ অফিসে বাসাবাড়ি বানিয়ে থাকার কোনো বিধান নেই। অথচ বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে নিজ অফিসেই বাসাবাড়ি বানিয়ে সেখানেই দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন।

অফিস সূত্রে জানা গেছে , বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান তার নিজ অফিসের তৃতীয় তলার একটি রুমে যোগদানের পর থেকেই বসবাস করে আসছেন। যে রুমে  তিনি থাকেন সেটি ছিল ডেবলপমেন্ট সেকশনের অফিস। বরগুনায় যোগদানের পরেই তিনি সেই রুমটিকে বাসাবাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছেন। সেখানে বসে তিনি নানা অনৈতিক কাজের সঙ্গেও নাকি লিপ্ত রয়েছেন। এ নিয়ে এলাকার লোক মুখে নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা কৃষি অফিসের কিছু কর্মচারীরা জানান, বিগত দিনে যতো কৃষি কর্মকর্তা বরগুনা সদরে চাকরি করেছেন তারা কখনো অফিসে থাকেননি। বাহিরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। কিন্তু এই কর্মকর্তা এখানে যোগদানের পর থেকেই  অফিসের একটি রুম দখল করে সেখানে বাসাবাড়ি বানিয়ে আছে। আমরা তাকে কিছুই বলতে পারি না। কারণ তারই অধীনে আমরা চাকরি করি।

তারা আরও জানান, তিনি এই অফিসে যোগদান করেই একই সময় ১৬ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি করিয়েছেন। পরে জেলা ডিডি স্যার তাকে শোকজ করেন। সেই শোকজের কপি আবার তিনি তার নিজের ফেইসবুক প্রফাইলে পোস্ট করেন। যার কারণে তাকে দ্বিতীয় বারের শোকজ করা হয়েছে। যাদেরকে তিনি বদলি করেছেন জেলার ডিডি স্যার তাদের বদলি স্থগিত করে স্ব-পদে বহাল রেখেছেন।

বরগুনা জেলা ফার্টিলাইজার সভাপতি মো. শাহিন মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, গত দু-মাস আগে আমি অফিস টাইমে  বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসে যাই। গিয়ে দেখি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একটি শর্টপ্যান্ট পরে অফিস করছেন। তখন আমি মনে করেছি, সে অন্য কেউ হবে। পরে শুনি সেই উপজেলা কৃষি  কর্মকর্তা। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম একটি সিগারেট খাচ্ছেন।  বিষয়টি দেখে আমার খারাপ লেগেছে। একজন বিসিএস কর্মকর্তা তিনি কিভাবে অফিস টাইমে শর্টপ্যান্ট পরে অফিসে আসেন এবং ওপেনে ধুমপান করেন। অফিসের তৃতীয় তলার একটি রুমে থাকেন। সেখানে তিনি সব সময় শর্টপ্যান্ট পরেই থাকেন এবং অফিস করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খতিয়ে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আমি বরগুনায় যোগদানের পর থেকেই অফিসে থাকি। যখন ছুটি পাই তখন পটুয়াখালী যাই।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক  (ডিডি) রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, আমি জানতাম না উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অফিসেই বাসাবাড়ি করে থাকেন। অফিসে থাকার কোনো বিধান নেই। এটি তিনি অন্যায় করেছেন। তাকে সরকার প্রতি মাসে তার মূল বেতনের ১৬ শতাংশ বাড়িভাড়া দিয়ে থাকেন। তিনি বাহিরে কোথাও বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবেন। অফিসে কেন থাকবেন ? আমি  আপনার মাধ্যমেই এই প্রথম জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Read more — সারাদেশ
Home