উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

হাসতে হাসতে হতে পারে স্ট্রোক, জানুন কীভাবে

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
হাসতে হাসতে হতে পারে স্ট্রোক, জানুন কীভাবে

 

স্ট্রোক মানেই শুধু বয়স্কদের অসুখ-এমন ধারণা এখন আর ঠিক নয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও ধূমপানের মতো নানা কারণে কম বয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অনেক সময় স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলেও তা বুঝতে দেরি করেন আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা।অথচ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানোর সুযোগ থাকে। স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ চিনতে হবে সবাইকে।

স্ট্রোক কেন হয়?

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে মস্তিষ্কের কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। 

 

এ কারণে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ।বয়স বাড়ার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়লেও তরুণ ও মধ্যবয়সীদেরও এই সমস্যা হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং ধূমপান ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বয়স কম বলে স্ট্রোকের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

স্ট্রোকের লক্ষণস্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো চিনতে পারলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো-মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসতে বললে মুখের এক পাশ ঠিকমতো নড়তে না পারা। হাসির সময় ঠোঁটের এক পাশ নিচের দিকে ঝুলে যেতে পারে।

হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া 

শরীরের এক পাশের হাত বা পায়ে হঠাৎ শক্তি কমে যেতে পারে। দুই হাত সামনে তুলতে বললে একটি হাত নিচে নেমে আসতে পারে।

কথা জড়িয়ে যাওয়া 

কথা বলতে অসুবিধা, জড়িয়ে কথা বলা কিংবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হতে পারে।হাঁটতে ও ভারসাম্য রাখতে সমস্যাহঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়া কিংবা শরীরের ভারসাম্য হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা

আচমকা এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা কোনো কিছু দেখতে অসুবিধা হতে পারে।

এই লক্ষণগুলোর কোনোটি হঠাৎ দেখা দিলে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সেই সময়টিও মনে রাখা জরুরি। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।লক্ষণ সেরে গেলেও বিপদ কাটে না

অনেক সময় স্ট্রোকের মতো লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে যায়। তখন আক্রান্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যরা মনে করতে পারেন, সমস্যা আর নেই। কিন্তু এমন সাময়িক উপসর্গও বিপদের সংকেত হতে পারে। একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক । এটি ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের সতর্কবার্তা হতে পারে।তাই মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হওয়া কিংবা কথা বলতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ অল্প সময়ের মধ্যে সেরে গেলেও জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

যেভাবে কমাবেন স্ট্রোকের ঝুঁকিস্ট্রোকের সব ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব না হলেও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ঝুঁকি কমানো যায়। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। খাবারের তালিকায় শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার রাখতে হবে। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও তেলযুক্ত খাবার কমাতে হবে।পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ধূমপান ছাড়তে হবে এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে।স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও লক্ষণগুলো জানিয়ে রাখুন। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই সবচেয়ে জরুরি।

সূত্র: নিউজ এইটটিন, হেলথলাইন

 

Read more — লাইফস্টাইল
Home