
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগ অতিক্রম করে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম উইয়ন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অর্ণব’ নামটি প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসক্যাপ) এ কার্যক্রম সমন্বয় করে। বিভিন্ন দেশ ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা জমা দেয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এই তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছিল। এতে নারী ও পুরুষ উভয়ের নামই রয়েছে।
তবে একসময় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে শুধু নারীদের নাম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস ঝড়ের নামকরণের প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর প্রায় ২৬ বছর ধরে ঝড়ের নাম রাখা হতো শুধু নারীদের নামে। ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো পুরুষদের নামও এ তালিকায় যুক্ত হয়।
এরও আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ছিল না। তখন মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমান শাখা ও নৌবাহিনীর আবহাওয়াবিদেরা হারিকেন ও ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখার ক্ষেত্রে তাদের স্ত্রী ও প্রেমিকাদের নাম ব্যবহার করতেন।
মনে করা হয়, আবহাওয়াবিদ ক্লেমেন্ট র্যাগ ১৯৮০-এর দশকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেন।
তবে নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে নারীদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রথমে গ্রিক বর্ণমালা ব্যবহার করেন। পরে গ্রিক ও রোমান পৌরাণিক কাহিনির চরিত্রদের নাম বেছে নেন। এরপর নারীদের নাম এবং রাজনীতিবিদদের নামও ব্যবহার করতে শুরু করেন। বলা হয়, এসব রাজনীতিবিদের অধিকাংশই ছিলেন তার অপছন্দের।
উত্তরা / এ এম

