উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ণ
ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী

‎বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বুয়েটের ‎শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের আত্মদানের এক চূড়ান্ত ফলাফলই হাসিনার ভীত শৃগালের মতো দেশ থেকে পলায়ন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন-সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে ‎​বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এ মন্তব্য করেন। শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

‎অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

‎আলোচনা সভায় ​ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে। দেশের মানুষের মনের ক্ষোভ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখনই আবরার ফেসবুকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত ভাষায় জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই অপরাধে তাঁকে ফ্যাসিস্টের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে।’

‎চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের যোগসূত্র টেনে রিজভী বলেন, এই জাতির রক্তের কণায় কণায় বিদ্রোহের যে স্রোত বইছে, তা শেখ হাসিনা শত গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েও স্তব্ধ করতে পারেনি। আবরারের সেই শহীদী আত্মদানেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে চব্বিশের জুলাই ও ৫ আগস্টে। যার পরিণতিতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে ভীত শৃগালের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে।

‎‎​ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছে, মার খেয়েছে। কিন্তু তারা আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেয়নি। খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ ‘সুপ্ত’ কিংবা ‘গুপ্ত’ বলতে পারে না।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার একটা সিগন্যাল দিতে চেয়েছিল যে, ওই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। বিশেষ করে যে রাষ্ট্রের হাতে আমাদের সব সুবিধাগুলো তুলে দেওয়া হচ্ছিল, সেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু বললেই আবরার ফাহাদের ভাগ্যবরণ করতে হবে। কিন্তু আনফরচুনেটলি তা ব্যাক ফায়ার করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে যেসব ঘটনা সাহায্য করেছিল, তার মধ্যে আবরার ফাহাদের শাহাদত বরণ অন্যতম কারণ ছিল। ওই নির্মম অত্যাচারই সাধারণ মানুষকে ওই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে অনুপ্রাণিত করেছে।’

আবরার ফাহাদ হত্যাসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের বিচারের দাবি জানিয়ে ‎‎অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রদল। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ছাত্রদলের শত শত নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হওয়ার পরও আমরা এক দিনের জন্যও রাজপথ ছাড়িনি।’

Read more — রাজনীতি
Home