উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সম্ভাবনার পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ ২৫০ বছরের রংপুর

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
সম্ভাবনার পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ ২৫০ বছরের রংপুর

তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়া, যমুনেশ্বরী, আলাইকুড়ি, মানাস, ধুম, চিকলি, বুল্লাই, নলেয়া, বুড়াইল, ইছামতি, শ্যামাসুন্দরী, আখিরাসহ অন্তত ২৮ নদ-নদী বিধৌত উত্তরের প্রাচীনতম জেলা রংপুর। ‘বাহের দ্যাশ’ খ্যাত এ জেলাকে বলা হয় রঙে-রসে ভরপুর ভূমি। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংগ্রামের উর্বরভূমিও রংপুর। উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম এই জনপদের রয়েছে গৌবরোজ্জ্বল ইতিহাস। ভ্রমণপিপাসুদের ভাওয়াইয়ার সুর সমৃদ্ধ এ জেলায় গানে গানে স্বাগত জানানো হয়।

 

ইংরেজবিরোধী আন্দোলন থেকে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন এর সবই শুরু হয়েছিল এখান থেকে। রয়েছে প্রাচীতম সংবাদপত্র ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ’ প্রকাশনার গৌরব। পৃথিবীর ইতিহাসে তীর-ধনুক, লাঠিসোটা হাতে ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করার কৃতিত্বটাও এই অঞ্চলের মানুষের।

কৃষক-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নূরলদীনের এই রংপুরেই জন্ম নিয়েছে নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। রয়েছে কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিজড়িত টাউন হল। মুছে যায়নি প্রাচীন পুরাকীর্তি আর পুরোনো গল্প। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গেছে এখানকার জীবনচিত্র। এসেছে নানান পরিবর্তন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আর নিত্যনতুন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রঙে রসে আরও রঙিন হয়ে উঠেছে ২৫০ বছরের প্রাচীন এই জেলা।  

পর্যটক আকর্ষণে কি কি আছে রংপুরে

রংপুর মহানগরী থেকে একটু দূরে হওয়ায় নেই ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো যানজট। নেই ধোঁয়া, ধুলো, হইহুল্লোড় বা শব্দ দূষণ। ব্যস্ত নগরী থেকে যতো দূরে ছুটবেন ততোই মুগ্ধ হবেন সবুজের মায়ায়। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে গরুর গাড়ি আর সুবজ খেতে কৃষান-কৃষানির ভাওয়াইয়া সুর। শান্ত, স্নিগ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে পাখির মিষ্টি কলতান।

 

রংপুর শহর ছাড়লেই মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ। যেখানে রয়েছে নারী জাগরণের অগ্রজ বেগম রোকেয়ার বসতভিটার স্মৃতিচিহ্ন। এখান থেকেই এই মহীয়সী নারী ছড়িয়েছেন মুক্তির আলো। এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন দুইশ বছরের প্রাচীন নির্দশন মিঠাপুকুর লাল মসজিদ দেখতে। চারপাশের সবুজ শ্যামল ধানখেতের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। কেউ কেউ এ মসজিদটিকে

মিঠাপুকুর তিন কাতার মসজিদ নামেও চিনেন। এবার দেখে আসুন এমন স্থানে, যা ইতিহাসের অমর সাক্ষী হয়ে আছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুর অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল মিঠাপুকুরের ফুলচৌকি গ্রাম। পলাশীর যুদ্ধের পর যে বীরপুরুষ রংপুর অঞ্চলকে ঘিরে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলেন, তিনি নুরউদ্দিন বাকের জঙ্গ। কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের সেই নূরলদীনই হলো নুরউদ্দিন বাকের জঙ্গ। ফুলচৌকি গ্রামে তার র্কীর্তি আজও বহমান। ঐতিহাসিক সেই ফুলচৌকি গ্রাম ঘুরে যেতে ভুলবেন না।

 

এর পাশের এলাকা পীরগঞ্জে রাজা নীলাম্বরের জলমহাল এলাকাও ঘুরতে পারেন। সুপ্রসিদ্ধ ব্যবসাকেন্দ্র চতরা হাট থেকে সামনে অগ্রসর হলেই রাজা নীলাম্বরের দূর্গ বা নীল দরিয়ার দূর্গের ধ্বংসাবশেষ দৃষ্টি গোচর হয়। এখানে ৯২.০০ একর সুবিশাল জলাধার বেষ্টন করে আছে ৪৮ একর স্থল ভাগকে। প্রাচীন কালে রংপুরের অংশ হিসেবে পীরগঞ্জ কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। পৌরাণিক যুগে মহিরঙ্গ দানব ছিল কামরূপের প্রথম রাজা। মহিরঙ্গ রাজার পর চার জন রাজা গত হলে রামায়নের যুগে নরক রাজা কামরূপে রাজত্ব করেন। সে সময় পীরগঞ্জের করতোয়া নদী পর্যন্ত কামরূপ রাজ্য বিস্তৃত ছিল।

এই উপজেলা কয়লা ও লোহার খনির জন্য সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে পরামাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কবর।

আরও রয়েছে বিনোদনস্পট আনন্দ নগরসহ কবি হেয়াত মাহমুদের সমাধি, কবিলপুর জমিদারের কাঁচারী, কাটাদুয়ার মাজার শরীফ, মনোমুগ্ধকর বিশাল বিল ও সাড়ে তিনশ বছরের একটি প্রাচীন বৃক্ষ। পীরগঞ্জে বাহাদুরপুর (উত্তর পাড়া) জামে মসজিদ, রায়পুর জমিদার বাড়ি ও দূর্গা মন্দির, খালাশপীর মসজিদসহ আরো অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে।

কাউনিয়া উপজেলায় ঘুরতে গিয়ে দেখতে পারেন রেল জংশন, তিস্তা রেল ও সড়ক সেতু, ধুম নদী ও ভায়ারহাট শিব মন্দির। আরেক উপজেলা তারাগঞ্জেও রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে

 

হাড়িয়ার কুঠির সরকারি উদ্যান, তারাবিবির মাজার, তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প ক্যানেল ও কালেক্টরেট বামনদিঘী ইকো পার্ক। পীরগাছায় বেড়াতে গেলে ইটাকুমারী রাজবাড়ী, মন্থনার জমিদার বাড়ী, কান্দি বান্নী ও নব্দীগঞ্জ বধ্যভূমি দেখে আসতে পারেন।

ঘুরে দেখতে পারেন পুরাতন রংপুরের মাহিগঞ্জ তাজহাটের অনিন্দ্যসুন্দর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন জমিদার বাড়িটিও। এই জমিদার বাড়ির সিঁড়ি শ্বেতপাথরের, যা ইতালি থেকে আনা হয়েছিল। সিঁড়িটি নিচতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত উঠে গেছে। সময়ের বিবর্তনে এই জমিদারবাড়িটি সুপ্রিমকোর্ট হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে এটি রংপুর জাদুঘর। ঘুরে দেখতে যেতে পারেন ঐতিহ্যবাহী ডিমলা কালীমন্দিরে। শতবর্ষী এ মন্দিরটিতে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব, শারদীয় দুর্গোৎসব, অমাবস্যা, জন্মাষ্টমী, কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমা, দোলযাত্রা, শিবরাত্রি ব্রত, রাম জন্মজয়ন্তিসহ সরস্বতী ও দীপান্বিতা কালীপূজার রাতে বিশেষ পূজা ও উৎসব আয়োজনে দূরদূরান্তের ভক্তদের আগমনে ভরে ওঠে এর পুরো প্রাঙ্গণ।

পুরাতন রংপুর হিসেবে পরিচিত মাহিগঞ্জে রয়েছে আফান উল্লাহর বাসভবন, আফান উল্লাহ জামে মসজিদ, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঐতিহাসিক বখতিয়ারি মসজিদ, গোসাঁইবাড়ি মন্দির, প্রায় দেড়শ বছরের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিগঞ্জ লাইব্রেরি।

এবার একটু ভিন্ন ধরনের বিনোদন পেতে ছুটে চলুন পাগলাপীর বাজার থেকে একটু দূরে গঞ্জিপুর এলাকার ভিন্নজগতে। না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না, ভিন্নজগতের ভেতরে আরেকটি ভিন্নজগত রয়েছে। সবুজের সমারোহে ঘেরা এ বিনোদন স্পট। এখানে রয়েছে সৌরজগৎকে জানতে দেশের প্রথম প্ল্যানেটারিয়াম। আজব গুহা ছাড়াও রয়েছে তাজমহল, মস্কোর ঘণ্টা, আইফেল টাওয়ার, চীনের প্রাচীর। চলছে ট্রেন, উড়তে চাইছে উড়োজাহাজ। শিশুদের বিনোদনেরও কমতি নেই। দিনভর হইহুল্লোড় মেতে উঠতে পারেন। ক্লান্তি আসবে না। নিরিবিলি সময় কাটাতে এখানে আবাসন সুবিধাও রয়েছে। এর পাশে গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা জমিদার বাড়িটিও দেখতে পারেন।

প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে এ উপজেলায় আছে কলি ও দলি আমিন বড়বিল পাকা জামে মসজিদ। উপজেলার পশ্চিমে বড়বিল মন্হনাহাট পার্শ্ববর্তী মিয়াপাড়া এলাকায় মসজিদটির অবস্থান। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন।

 

নগরীর নিসবেতগঞ্জ ঘাঘট নদের তীর ঘেঁষে রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘প্রয়াস’ বিনোদন পার্ক। পাখির কিচিরমিচির শব্দ কানে বাজবে। এই পার্কের পাশেই রয়েছে ‘রক্তগৌরব’ নামের স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ অঞ্চলের জনগণ লাঠিসোঁটা, তীর-ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে অনেকে নিহত হন। তাদের স্মৃতির উদ্দেশে এখানে এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হয়েছে। এটিও একনজর দেখে নিতে পারেন।

ঘুরে আসতে পারেন বদরগঞ্জ রোড ধরে শ্যামপুর জমিদার বাড়ি এবং সাতআনী জমিদার বাড়ি এলাকা। পুরোনো মন্দির, সোনালী ব্যাংক অফিস, মসজিদ ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু  নিদর্শন। দেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন লালদিঘী ৯ গম্বুজ মসজিদ। এটি লালদিঘী মসজিদ নামেই সমধিক পরিচিত। বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে মসজিদটি অবস্থিত।

বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের কাছেই রয়েছে চিকলি বিল। আর এই বিলের ধারের একপ্রান্তে চিকলি সিটি বিনোদন পার্ক, আরেকপ্রান্তে চিকলি ওয়াটার পার্ক। সেখানে বিভিন্ন রাইডে চড়ে লেকের সৌন্দর্য্য উপভোগ করুন। স্পীডবোর্ডে করে বিলের বুকে দূরন্তপনায় মেতে উঠতে মানা নেই। সেখান থেকে বেরিয়ে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় যেতে পারেন। এখানে আসলে গাছগাছালির নিবিড় পরিবেশে দেখতে পাবেন পশুপাখি। সেখানে একটি শিশুপার্কও রয়েছে। নগরীতে রয়েছে রূপকথা নামে একটি অত্যাধুনিক থিমপার্ক।

কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা থেকে এসে মঞ্চনাটক করে গেছেন রংপুর টাউন হলে। এই হলটিও দর্শন দিতে ভুলবেন না। নাটকের ইতিহাসের সাথে এই রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। যা শুনলে গাঁ শিউরে উঠবে। কাঁদবে হৃদয়। এই টাউন হলটি দাঁড়িয়ে আছে রংপুরের সংস্কৃতিপল্লীতে। এখানে রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন সাহিত্য চর্চাকেন্দ্র ‘রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ’। রয়েছে পাবলিক লাইব্রেরি, অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিল্পকলা একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিসহ বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এই রংপুরে রয়েছে শতবছরের ইতিহাসের সাক্ষী দুটি প্রাচীন বিদ্যাপীঠ কারমাইকেল কলেজ ও রংপুর জিলা স্কুল। যার দিগন্তজোড়া খোলা মাঠে ঘুরে বেড়ালে মনটা জুড়িয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও আগে প্রতিষ্ঠিত কারমাইকেল কলেজে দেখতে পাবেন শতবর্ষী বিরল কাইজেলিয়া বৃক্ষটি। এর পাশেই রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এটি একনজরে দেখে নিতে পারেন।

ইতিহাসের আরেক অধ্যায় বঙ্গবিজয়ী ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি তিব্বত অভিযানে রংপুরে একটি এলাকায় রাত্রিযাপন করার কারণে তারই নামানুসারে গ্রামের নাম হয়েছে বখতিয়ারপুর, যা রংপুর শহরের পাশেই অবস্থিত। এখানে পদধূলি দিতে ভুলবেন না।

এ ছাড়া রংপুর নগরীর প্রধান সড়কে দেখা মিলবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য। ধাপ চেকপোস্টে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ বিজয়, নিসবেতগঞ্জে রক্ত গৌরব, মর্ডাণ মোড়ে অর্জন, শাপলা চত্বরে ভাসমান শাপলা, পায়রা চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা, লালবাগ মোড়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদের নামফলক।

রংপুরে বেড়াতে বেড়াতে সময় হাতে থাকলে এবার এখান থেকেই দিনে দিনে ঘুরে আসতে পারেন গঙ্গাচড়ার মহিপুর ঘাট। বিশাল তিস্তা নদীর বুকে নির্মিত দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর ওপারে গেলে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জের কাকিনায় পেয়ে যাবেন নন্দিত কবি ফজলুল হকের বাড়ি ও সমাধি। রয়েছে কাকিনার জমিদার বাড়ি। এখান থেকে সময় করে যেতে পরেন দিনাজপুরের রামসাগর দিঘি, কান্তজিউ মন্দির, রাজবাড়ী। নীলফামারীর নীলসাগর ও তিস্তা ব্যারেজ। আরও একটু উত্তরে গিয়ে দেশের একেবারে শেষ প্রান্ত তেঁতুলিয়া।

সব বয়সী মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য উত্তরবঙ্গের অন্য কোনো জেলায় রংপুরের মতো এতো বেশি বিনোদন স্পট নেই। তাই সুযোগ পেলে সময় নিয়ে আসতে পারেন বাহের দেশ খ্যাত রংপুরে। বিনোদনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন আপনার জানা-অজানা ইতিহাসও। হয়তো পাঠ্যবইয়ে পড়েছেন, কিন্তু দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া। তাইতো এ অঞ্চলের মানুষরাও ভাওয়াইয়ার সুরে আমন্ত্রণ জানায়- ‘রংপুর হামার রঙে ভরা রে, আরে ও বন্ধু আইসেন হামার বাড়ি’।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণে গেজেট প্রক্রিয়াধীন

ইতিহাস-ঐতিহ্যে ঘেরা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণে অনুসন্ধান, জরিপ ও খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম। পাশাপাশি রংপুর বিভাগে ৫টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণে গেজেট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

রংপুর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আব্দুল্লাহ জানান, আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তারা নতুন সাইটের প্রতিবেদন তৈরিসহ জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করা হচ্ছে। রংপুর বিভাগে ৫টি প্রত্মতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণে গেজেট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ধীরে ধীরে এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এসব স্থান পর্যটন শিল্পের বিকাশে রংপুরকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

 

তিনি আরও বলেন, রংপুর আঞ্চলিক অফিস প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর কার্যক্রম বেগবান হয়েছে। আশা করছি রংপুরের যেসকল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে সবগুলো পর্যায়ক্রমে সংরক্ষিত করা হবে।

শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোই নয়, পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পর্যটকদের আকর্ষণ করে তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রংপুরে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।

অনুষ্ঠানে রংপুর অঞ্চলের পর্যটন শিল্প ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ ও উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, দর্শনার্থী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যটন শিল্প ও স্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরা/এএইচ

Read more — সারাদেশ
Home