উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

‘মেয়াদ শেষে পিটিয়ে বের করে দেবো’, চবি হল সংসদ ভিপিকে ছাত্রদল নেতার হুমকি

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ
‘মেয়াদ শেষে পিটিয়ে বের করে দেবো’, চবি হল সংসদ ভিপিকে ছাত্রদল নেতার হুমকি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) রিপুল চাকমাকে মেয়াদ শেষে হল থেকে পিটিয়ে বের করে দেয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হলটির ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগের পর হল প্রশাসনের এক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে গেলে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলমসহ হল সংসদের কয়েকজন সংসদের সদস্য সেখানে যান। তবে সেখানে অবৈধভাবে থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।

ভিপি রিপুল চাকমার অভিযোগ, একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিন তাকে লক্ষ করে বলেন, ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব।’ তবে নাছিম উদ্দিনের দাবি, তাকে গালি দেয়ার পর হুমকি দেন তিনি।

এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা বলেন, ‘গতকাল আমি দেখি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হলে আসে এবং বলে সে ৩১৩ নম্বর রুমে উঠেছে। এ নিয়ে আমি হল সংসদের গ্রুপে কথা বলি। পরে স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। সেখানে একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেয়া হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এ রুম নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে। এখানে বিশেষ বিবেচনায় সিট দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক রুমে চারটি করে সিট থাকলেও তারা সেখানে পাঁচটি সিট নিয়েছে। আমাদের প্রার্থনা রুম থেকে একটি সিট নিয়ে সেখানে দিয়েছে। এ হলেই সিট বরাদ্দের সময় রুম খালি রেখে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রুম দেয়া হয়েছে।’

তবে নাছিম উদ্দিনের গালি দেয়ার অভিযোগে রিপুল চাকমা জানান, তিনি কক্ষে কাউকে গালি দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে নাছিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আমাদের রুম নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারিস না। তখন সে বলে, এটা তার অধিকার। আমাকে গালি দিলে আমি তখন তাকে হুমকি দিই। আমাকে গালি দেয়ার জন্য তাকে ভিপি বানানো হয়নি। আমি হুমকি দিয়েছি, তবে আমাকে গালি দেয়ার পর বলেছি।’

এ বিষয়ে হলটির সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু রুমে যারা থাকে তারা জানায় অবৈধ কেউ নেই। তারা অতিথি ছিল, ঘুরার জন্য এসেছিল, তারপর চলে গেছে। এরপর তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

উত্তরা /এএম 

Read more — সারাদেশ
Home