
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহার করে ২০০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কীটনাশক ডিলার মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্সের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। উপজেলার বড়মহেশপুর, শিমর, শিবরামপুর, কয়রাপুর, কালিয়া, তিখুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলতি আমন মৌসুমে জমি রোপণের পর ভাদুরিয়া বাজার হতে মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্স নামক একটি কীটনাশকের দোকান থেকে আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশক ক্রয় করেন বেশ কিছু কৃষক। সেই আগাছা জমিতে ব্যবহারের পর হঠাৎ ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকের।
সমাধান চেয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বাবু মিয়া নামে একজন কৃষক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবসায়ী ও ডিলারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকারি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়মহেশপুর, শিমর, শিবরামপুর, কয়রাপুর, কালিয়া, তিখুরসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন মাঠে সম্প্রতি কৃষকরা আমন ধান চাষাবাদ করেন। জমিতে আগাছা দমনের জন্য স্থানীয় ভাদুরিয়া বাজার হতে মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্স নামক একটি কীটনাশকের দোকান থেকে আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশক ক্রয় করেন কৃষকরা। কিন্তু স্প্রে করার মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সবুজ ধানগাছগুলো প্রথমে হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ কুঁকড়ে পচে মারা যায়। একাধিকবার চারা রোপণ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরয়া ইউনিয়নের বড়মহেশপুর গ্রামের কৃষক বাবু মিয়া জানান, বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিক্রি করা ভেজাল বা নিম্নমানের আগাছানাশক অথবা ডিলারদের ভুল পরামর্শের কারণেই এ বিপর্যয় ঘটেছে। অনেক কৃষক এনজিও থেকে লোন নিয়ে এবং চড়া সুদে ঋণ করে জমিতে বীজ, সার ও সেচ দিয়ে আমন আবাদ করেছিলেন। ধানখেত এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন চরম খাদ্য ও আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন তারা। তবে কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিন দেখে গেলেও কোনো সমাধান দেননি। কীটনাশক ডিলার মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্সের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন- কোম্পানির লোকের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবেন। তবে এখনো তার সমাধান করেননি বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।
কীটনাশক ডিলার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া জমির ধানের বিষয়ে কৃষকদের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। তবে কিভাবে সমাধান করা হয়েছে- সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, কৃষকের অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়েছে। কৃষক বাবু মিয়া ২০০ বিঘা জমি নষ্ট হয়েছে- এমন অভিযোগ দিয়েছেন, তবে ২০০ বিঘা জমি হবে না। ইতোমধ্যে জমির মাটি, পানি, চারা এবং আগাছানাশক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
উত্তরা/এএম

