উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ঘিরে বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের দাম

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ঘিরে বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের দাম

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ঘনিয়ে আসতেই পাইকারি বাজারে বেড়েছে চিনিগুঁড়া চাল, ডিম, মোটর, চিনি, ছোলা, পাম অয়েল ও চায়না রসুনের দাম। যদিও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বাড়ার কারণে এর প্রভাব পড়েছে। এদিকে বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা।

সোমবার চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার পাহাড়তলীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে বাজারটিতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ১৯৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে বাজারটিতে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে ৮ টাকা ৬০ পয়সা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা ৬০ পয়সা। খুচরায় প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজা খান বলেন, ‘চিনিগুঁড়া চাল ও ডিমের দাম বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় ডিমের দামটা বেশি। আর চিনিগুঁড়া চালের দাম তো আরও আগে থেকেই বাড়তি। এখন নতুন করে ২০০ টাকা বেড়ে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

এদিকে চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের আরেকটি বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে মোটর, চিনি, ছোলা, পাম অয়েল ও চায়না রসুনের দাম।

চলতি বছরের মার্চে পাইকারি বাজারটিতে প্রতি লিটার পাম অয়েল ১৪৭ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হয়। চলতি মাসের শুরুতে দাম বেড়ে বিক্রি হয় ১৫৩ টাকা ৪৯ পয়সায়। বর্তমানে দাম আরও বেড়ে ঠেকেছে ১৫৪ টাকা ৭০ পয়সায়। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের বুকিং রেট বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পণ্যটির টনপ্রতি বুকিং রেট ছিল ১ হাজার ৪ ডলার। মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১০২ ডলারে। জুন মাসে বুকিং রেট ছিল ১ হাজার ১৪৫ ডলার। বর্তমানে আরও বেড়ে ঠেকেছে ১ হাজার ১৬২ ডলারে। তাই এর প্রভাব পড়েছে।

গত সপ্তাহে পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকায়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। খুচরায় পণ্যটির কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে মাসের ব্যবধানে মোটরের কেজিতে ৬ টাকা বেড়ে ৪৬ টাকা ও ছোলার কেজিতে ৭ টাকা ৫ পয়সা বেড়ে ৭৭ টাকা ৫ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ঘিরে খাতুনগঞ্জে বেচাবিক্রি বেড়েছে। ভোগ্যপণ্যের সরবরাহও বেশ ভালো রয়েছে। তবে এ কারণে দাম বেড়েছে সেটি বলা যাবে না। বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বাড়ার কারণে দাম বেড়েছে। কারণ খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে কী কমবে সেটি নির্ভর করে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি ও বুকিং রেটের ওপর। বর্তমানে পণ্যটির বুকিং রেট বেশি, তাই খাতুনগঞ্জে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ডালের বুকিং রেট এখন বেশি। আমদানি খরচ কমে গেলে দাম এমনিতেই কমে যাবে।’

এদিকে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজ ও চায়না আদার দাম না বাড়লেও বেড়েছে চায়না রসুনের দাম। বর্তমানে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চায়না আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। তবে চায়না রসুন কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ১২৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কিট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে। আমরা সপ্তাহখানেক আগেও ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। এখন কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। আদা, রসুনের বাজারও আগের মতোই আছে। দাম খুব একটা বাড়েনি।’

এদিকে নগরীর হালিশহর, কর্ণফুলীসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি, টমেটোর দাম বেড়েছে। গত শুক্রবারও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা। পাশাপাশি বাজারে বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটো ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হালিশহর কাঁচাবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. শফি বলেন, ‘মুরগির চাহিদা বেড়েছে, তাই আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।’ পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আতাউল গণি বলেন, ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাসার জন্য এক কেজি চিনিগুঁড়া চাল কিনেছি ২৪০ টাকায়, যা কয়েক মাস আগেও কিনেছি ১৯০ টাকায়। ডিম, মুরগি, অন্যান্য সবজি সবকিছুর দাম বাড়তি। ভোগ্যপণ্যের বাজারের দিকে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজারে কঠোর তদারকিও প্রয়োজন।’

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘কোনো একটা উপলক্ষ এলেই কারণ ছাড়াই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দাম বাড়ানোর পেছনে থাকে পুরোনো অজুহাত। আর ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ জনগণ। তাই বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু বাজার তদারকি করলেই হবে না, কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, নিয়মিত অভিযান চলমান আছে। বাজার তদারকিও থেমে নেই। মূল্যতালিকা, বেচাকেনার রসিদ না রাখা, বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Read more — সারাদেশ
Home