
ভারতীয় সীমান্তে বহুল আলোচিত ফেলানী খাতুন হত্যার পর কেটে গেছে প্রায় এক যুগ। সেই ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) চাকরি পেয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই ফেলানীর পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের আনতপুর সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ফেলানী। তাঁর মরদেহ দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকার মর্মান্তিক দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি আরফান হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র দেন। তিনি জানান, “ফেলানীর পরিবারের পাশে সবসময় আছে বিজিবি। আরফান বিজিবির সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর যোগ্য সীমানারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।” আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেবেন।
ফেলানীর বাবা কাদের হোসেন ছেলের চাকরির খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “পেটের দায়ে ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়ে আমার মেয়ে জীবন দিয়েছিল। আজ আমার ছেলে সীমান্ত পাহারা দেবে, এর চেয়ে খুশির খবর আর কিছু হতে পারে না।”
পরিবারের পাঁচ সন্তানের একজন ছিলেন ফেলানী। তাঁর মৃত্যুর পর এখন বেঁচে আছেন দুই ভাই ও এক বোন।
উল্লেখ্য, সীমান্ত হত্যার সেই ভয়াবহ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ফেলানীর পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো ভারতের আদালতে চলছে মামলার বিচার।

