
রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ অগাস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি হাফেজ মো. জাকারিয়া রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসার শিক্ষক। একই সঙ্গে বয়স বিবেচনায় শিশু হওয়ায় জুবায়ের নামে আরেক আসামির রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিন কারাগার থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে দেওয়ান ইমদাদুল আলম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ৩ আগস্ট দুপুরে ওই মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে মো. নাঈম শেখ নামে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মা নাজমা বেগম এই দুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর রাত ১০টার দিকে তাদের মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ৪ আগস্ট তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন গত ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই আমজাদ হোসেন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, নাজমা বেগমের দুই ছেলেই ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। আসামিরা বিভিন্ন কারণে নাঈমকে নির্যাতন করত। নাঈম বিষয়টি তার মাকে জানান। নাজমা তার ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু আসামিরা মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র দেবে না মর্মে জানায়। নাঈম সেখানে পড়াশোনা করতে না চাওয়ায় আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং নির্যাতন করতে থাকে।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে নাঈম তার শিক্ষকদের জানিয়ে দেয়, সে মাদ্রাসায় পড়বে না। তখন তাকে মারধর করা হয় এবং চেঙ্গাদোলা করে রাখে। পরবর্তীকালে দুপুর ১টা থেকে আড়াইটার মধ্যে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
উত্তরা/এএম

