
অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। রুদ্ধশ্বাস এক ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের চ্যাম্পিয়ন হলো ইউরোপের দলটি।
রোববার (২০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে ম্যাচের শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে চাপে ফেলে স্পেন। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেন নিকো উইলিয়ামস। তার নিখুঁত পাস থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন তোরেস। ১০৬ মিনিটের সেই গোলই শেষ পর্যন্ত স্পেনকে এনে দেয় বিশ্বকাপের শিরোপা।
ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রেখেছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোর নিশ্চিত কয়েকটি সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন তিনি। ৯৬ মিনিটে স্পেন বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি।
১০৫ মিনিটেও স্পেন গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। উইলিয়ামসের ক্রস থেকে মেরিনোর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। তবে পরের মিনিটেই আর রক্ষা হয়নি আর্জেন্টিনার।
গোল হজমের পর লিওনেল মেসিকে সামনে রেখে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ১১৫ মিনিটে মেসির কর্নার প্রায় সরাসরি জালে ঢুকে যাচ্ছিল। ১১৭ মিনিটে তার জোরালো শট নিজের শরীর দিয়ে ঠেকিয়ে দেন স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। যোগ করা সময়েও জুলিয়ানো সিমেওনের সামনে সমতায় ফেরার সুযোগ এলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি।
এর আগে ম্যাচের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। সংখ্যাগত সুবিধা পাওয়ার পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সেই চাপ থেকেই আসে শিরোপা নির্ধারণী গোল।
ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করে ইতিহাসেও নাম লেখালেন ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালের ফাইনালে মারিও গ্যোৎসের পর তিনিই প্রথম বদলি খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করে দলের শিরোপা নিশ্চিত করলেন।
শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে চোখের জল নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসলো স্পেন।

