
প্রথমার্ধের জোড়া গোল বাতিলের ধাক্কা, এরপর গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে চরম ব্যাকফুটে ছিল জার্মানি। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় আইভরি কোস্টের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। বদলি নামা ডেনিজ উন্দাভের জোড়া গোলে ২–১ ব্যবধানের জয়ে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গাও।
টরন্টোয় ম্যাচের ৩০ মিনিটে ওসমানের নিখুঁত ক্রসে ফ্রাঙ্ক কেসির গোল আইভরি কোস্টকে এগিয়ে দেয়। এর আগে ও পরে ফাউলের কারণে জার্মানির দুটি গোল বাতিল হলে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হতে ৬০ মিনিটে মাঠে নামেন উন্দাভ ও নাদিম আমিরি। ৬৮ মিনিটে আমিরির চমৎকার চিপ থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে জার্মানিকে সমতায় ফেরান উন্দাভ।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচ জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। ৮৫ মিনিটে কাই হাভার্টজের জায়গায় গোরেৎস্কাকে নামিয়ে ফরমেশন বদলান নাগেলসমান। ৮৬ মিনিটে উন্দাভের শট রুখে দেওয়ার পর ৮৮ মিনিটে একক গতিতে ৪০ গজ দৌড়ে দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন আইভরিয়ান তারকা নিকোলাস পেপে। ৮৯ মিনিটে জার্মানির ব্রাউনের একটি নিশ্চিত গোলমুখী বুলেট গতির ভলি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে তালুবন্দী করেন আইভরিয়ান কিপার ফোফানা।
ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। ফেলিক্স এনমেচার বাড়িয়ে দেওয়া চমৎকার এক পাস বক্সের সামনে পিঠ দিয়ে বল রিসিভ করেন উন্দাভ। নিখুঁত প্রথম স্পর্শে শরীর ঘুরিয়ে কোণাকুণি জোরাল শটে বল জালে জড়ান তিনি। উন্দাভের এই অবিশ্বাস্য দ্বিতীয় গোলের পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি আইভরি কোস্ট, ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখে এক যুগ পর নকআউট পর্বে উঠেছে জার্মানি। ২০১৪ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে তারা। এবার দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ই গ্রুপ থেকে নিশ্চিত করে শেষ বত্রিশ রাউন্ডে খেলা।

