উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সুখবর নেই বাজারে, কমেনি কোনো পণ্যের দাম

উত্তরা ডেস্ক ১৫ মে ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ণ
সুখবর নেই বাজারে, কমেনি কোনো পণ্যের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে সুখবর নেই বাজারে। কোনো জিনিসের দাম কমেনি। হাওরে ধান ওঠা শুরু হলেও কমেনি চালের দাম। গত সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ টাকা ডজন হয়েছে। এর পর আর কমেনি। বাজারে শীত-গ্রীষ্মের সব ধরনের সবজি পাওয়া গেলেও কমেনি দাম। অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম বেড়ে ১২০ টাকায় ছুঁয়ে গেছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় আদা কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সব ধরনের পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তাই কমছে না কোনো জিনিসের দাম। তবে জিরা, লবঙ্গসহ অন্য মসলার দাম বাড়েনি। বাজারভেদে একই পণ্য ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে বিক্রি

বাজারে এখনো শীতের কপি, টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজিতেও ভরে আছে বাজার। তার পরও কমছে না দাম। সব সবজি যেন ১০০ টাকা কেজিতে স্থির হয়ে গেছে। বিভিন্ন বাজারের অধিকাংশ দোকানে কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ১০০ থেকে ১২০, হাইব্রিড শসা ৭০ থেকে ৮০, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০, বরবটি ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০, শজনেডাঁটা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০, ঢ্যাড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আগের সপ্তাহে টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় ঠেকেছে। গ্রীষ্মকালের ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙাও ১০০ টাকার কমে মিলছে না বাজারে। অন্য সবজিও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় মিলছে।

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. হাবিবসহ অন্য বিক্রেতারা গণমাধ্যমকে জানান, ‘সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। আড়ত থেকে সব সবজিই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’ নূরজাহান রোডের ক্রেতা মো. দুরুল হোদা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘সব সবজিরই দাম ১০০ টাকার ওপরে। এত দাম!’ অন্য ভোক্তারাও লাগামহীন দামে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাজার সবজিতে ভরা, তার পরও দাম কমে না। অদ্ভুত ব্যাপার।’  

চড়া দামেই স্থির ডিম-মুরগির দাম 

আগের সপ্তাহে ডিমের ডজন ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। গতকালও সেই দামে বিক্রি হয়। তবে সাদা ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাতিরপুল বাজারের ওহাব আলী বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে লাল ডিমের ডজন ১৫০ টাকা, সাদাটা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে দাম কমে না। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ অন্য বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রির কথা জানান।

আগের সপ্তাহের মতোই গতকালও সোনালি মুরগির কেজি ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। মুরগির মতো মাছও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ গ্রামের ইলিশ মাছ ৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতল মাছও আগের মতো ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, নদীর চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্যান্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষের এসব মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তেলাপিয়া মাছও আকারভেদে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

বেড়েছে আদার দাম

কয়েক মাস থেকে আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল আদা ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে আগের মতোই আলু ২০ থেকে ২৫, দেশি রসুন ১০০, চায়নাটা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাওরে ধান ওঠা শুরু হলেও কমেনি চালের দাম। গতকালও আগের মতো মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশি মসুর ডাল ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

Read more — অর্থনীতি
Home