উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

কোরবানির গরুতে লাভের হিসাব নিয়ে হিমশিম প্রান্তিক খামারিরা

গরু প্রতি খরচ মাসে ১৫ হাজার টাকা
উত্তরা ডেস্ক ১২ মে ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ণ
কোরবানির গরুতে লাভের হিসাব নিয়ে হিমশিম প্রান্তিক খামারিরা

গেল কয়েক মাসে ভুসি, খৈল, ভুট্টা, ধানের কুড়া ও খড়সহ প্রায় সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এতে কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন টাঙ্গাইলের প্রান্তিক খামারিরা। কোরবানির হাটে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও তাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছোট-বড় খামারিরা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায়। খামারগুলোতে গরুকে নিয়মিত গোসল করানো, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো কার্যক্রম চলছে বাড়তি যত্নে।

খামারিরা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে গরু। পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাদ্য।

ভুয়াপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকার প্রান্তিক খামারি আব্দুস সাত্তার মিয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি গরু পালনে মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ভুসির প্রতি বস্তা দুই হাজার টাকা, একটি গরুর জন্য মাসে প্রয়োজন হয় দুই বস্তা। ধানের কুড়ার ৮০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৬০০ টাকা, খড় ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৬০ কেজির দানাদার খাবার ৩ হাজার টাকা এবং বীজজাতীয় খাবার ৪ হাজার টাকা।

তিনি জানান, সব মিলিয়ে খরচ এত বেড়েছে যে গরু বিক্রি করে অনেক সময় মূলধন তুলতেই কষ্ট হয়। তবে ধাপে ধাপে খরচ করে একসঙ্গে গরু বিক্রি করলে কিছু টাকা হাতে আসে।

প্রান্তিক খামারি আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, ছয় মাস আগে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনলেও খাদ্য ও পরিচর্যার খরচ যোগ করে কঠিন হয়ে পড়েছে লাভ করা।

সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের খামারি সুমন দেওয়ান বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে অনেক। এত খরচ করে গরু পালন করার পর কোরবানির হাটে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। বিভিন্ন হাটবাজারে গরুর দামের ওঠানামার খবরও নিয়মিত রাখছেন খামারিরা।

সদর উপজেলার সামাদ চাকলাদার বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা মিয়ানমার থেকে গরু এলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন স্থানীয় খামারিরা।

ভুয়াপুর উপজেলার খামারি রাফি চকদার জানিয়েছেন, প্রতি বছর তার খামারে দুই থেকে আড়াইশ গরু থাকলেও এবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাত্র ৫০টি গরু তুলেছেন। এ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

দেলদুয়ার উপজেলার মিজানুর রহমান প্রশাসনের কাছে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পশুখাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, বাজার স্থিতিশীল থাকলে লোকসান থেকে কিছুটা রক্ষা পাবেন খামারিরা।

এদিকে সদর উপজেলার আব্দুস সাত্তার মনে করছেন, উৎপাদিত গরুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল খান বলেছেন, টাঙ্গাইলে গত বছরের তুলনায় এবার বেড়েছে গবাদিপশুর সংখ্যা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে পশু।

তিনি জানান, খামার পরিদর্শন, ভ্যাকসিন প্রদান ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসহ পরিচালনা করা হচ্ছে নানা কার্যক্রম। পাশাপাশি হরমোন ও স্টেরয়েডজাতীয় খাদ্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে খামারিদের।

Read more — সারাদেশ
Home