উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

পোশাকে সতর্ক কিম কন্যা, কী বার্তা দিচ্ছেন উত্তর কোরিয়া নিয়ে?

বিদেশ ডেস্ক ৭ মে ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ণ
পোশাকে সতর্ক কিম কন্যা, কী বার্তা দিচ্ছেন উত্তর কোরিয়া নিয়ে?

জু-একে মাঝে মাঝে তার বাবার সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরতে দেখা যায়। তার বাবা চামড়ার ট্রেঞ্চ কোট পরতে খুব পছন্দ করেন।

২০২২ সালের নভেম্বরে এক অদ্ভুত ছবি আসে পুরো বিশ্বের মানুষের নজরে। উত্তর কোরিয়ার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা কিম জং-উন দাঁড়িয়ে ছিলেন বিশাল এক মিসাইলের সামনে তার আদরের ছোট মেয়ে কিম জু-একে নিয়ে। সেই ছবিতে ৯ বছরের ছোট্ট মেয়েটি পরেছিল সাদা রঙের একটি দামি জ্যাকেট আর কালো প্যান্ট। রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় সেই প্রথমবার জু-এয়ে হাজির হয় বিশ্ববাসীর সামনে নিজের রাজকীয় সাজগোজ নিয়ে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেয়েটির চুলের স্টাইল হয়েছে আরও জাঁকজমকপূর্ণ আর পোশাকগুলো হয়েছে অনেক বেশি দামি ও মার্জিত। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন মনে করছে কিম জং-উন আসলে নিজের মেয়েকেই বানাচ্ছেন তার সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী।

বর্তমানে ১৩ বছরের কিম জু-এ এখন প্রায় সব জায়গাতেই যায় তার বাবার ছায়ার মতো সঙ্গে সঙ্গে। মিসাইল পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিদেশের মাটিতেও তাকে দেখা যাচ্ছে বড় বড় নেতাদের পাশে। বিশ্লেষকরা কিম জু-এর চামড়ার জ্যাকেট আর পশমি কোট দেখে বলছেন তাকে এখন থেকেই দেশের শাসনভার সামলানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সুকৌশলে।

উত্তর কোরিয়ার প্রচারণা বিভাগ কিম জু-এর এই পোশাকগুলো খুব ভেবেচিন্তে বেছে দেয় সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে। মাঝে মাঝে মেয়েটি পরে একদম তার মায়ের মতো ফর্মাল স্যুট আর স্কার্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিম জু-এর কম বয়স যেন দুর্বলতা না হয়ে দাঁড়ায়, তাই তাকে বয়সের চেয়ে বেশি গম্ভীর আর ম্যাচিউর দেখানোর চেষ্টা চলছে অনবরত।

কখনো কখনো মেয়েটি তার বাবার সঙ্গে মিলিয়ে পরে কালো রঙের চামড়ার জ্যাকেট আর ট্রেঞ্চ কোট। আগের প্রজন্মের নেতাদের সঙ্গে চেহারার মিল রেখে ক্ষমতা ধরে রাখার এই পুরনো কায়দাকে তারা বলছে ‘ইমেজ রেপ্লিকেশন’।

কিম জং-উন নিজেও ক্ষমতায় আসার শুরুতে তার দাদার মতো করে সাজতেন নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে। উত্তর কোরিয়ার মানুষ তাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতা কিম ইল সাংকে দেখে একদম দেবতার মতো ভক্তিভরে। প্রচার বিভাগ এমনভাবে সব পরিকল্পনা সাজায় যাতে দাদার প্রতি মানুষের সেই ভালোবাসা সরাসরি নাতি কিমের ওপর এসে পড়ে খুব স্বাভাবিকভাবে। কিম জং-উনের চেহারা তার দাদার মতো হওয়ায় মানুষ মনে করত, পুরনো সেই নেতাই বুঝি আবার পুনর্জন্ম নিয়েছেন তাদের উদ্ধার করতে।

সাধারণ মানুষের চেয়ে কিম পরিবার যে আলাদা, তা তারা বোঝায় দামি সব ওয়েস্টার্ন পোশাক পরে। কিম জু-এ ইদানীং হরহামেশাই পরছে হাইকোয়ালিটি লেদারের জ্যাকেট যা দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য একদম স্বপ্নের মতো। দামী ব্র্যান্ড আর পশমি কোট উত্তর কোরিয়ার সাধারণ বাজারে পাওয়া যায় না বললেই চলে।

সাধারণ মানুষের ওপর যখন কড়া নিয়মকানুন চাপিয়ে দেয় সরকার, তখন কিম জু-একে দেখা যায় দামী সব ফ্যাশনেবল পোশাকে। ২০২০ সালে বাইরের সংস্কৃতি চর্চা তারা একদম নিষিদ্ধ করে দিলেও কিম পরিবার কিন্তু ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিলাসিতা।

এক ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট কিম জু-এ প্রায় ১৪০০ পাউন্ডের এক দামী ডিয়র জ্যাকেট পরে হাঁটছে বিশাল এক মিসাইলের পাশ দিয়ে।

রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে কিম জু-এ এমন এক ব্লাউজ পরেছিলেন যাতে তার হাত দেখা যাচ্ছিল। পরে সরকার সাধারণ মানুষের জন্য এক সতর্কবার্তা জারি করে যে এমন সাজগোজ তারা একদমই করতে পারবে না।

সরকার বলছে যে পশ্চিমা ধাঁচের এই চুলের স্টাইল বা পোশাক সমাজতন্ত্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে দিনের পর দিন। কিম পরিবার সব নিয়মের ঊর্ধ্বে থেকে দেবতার মতো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সবসময়। উত্তর কোরিয়ায় জিন্স পরা একদম মানা থাকলেও কিম জং-উন নিজে কিন্তু প্রায়ই তা পরেন খুব আয়েশ করে।

আইনে যাই হোক না কেন, পরম নেতার অসাধ্য যে কিছুই নেই, তা এই ঘটনাগুলো থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

এত কড়াকড়ির মধ্যেও ধনী উত্তর কোরিয়ানরা এখন চাইছে কিম পরিবারের মতো একটু স্টাইল করে চলতে। চীন সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে শ্যানেল কসমেটিকস আর পারফিউম বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে আর পশমি কোটও হচ্ছে বেশ জনপ্রিয়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের দামি কিন্ডারগার্টেনে এখন কিম জু-এর মতো স্বচ্ছ ব্লাউজ পরাতে দেখা যায় শৌখিন অভিভাবকদের।

তরুণরা এখন কিম জু-এ আর কিম জং-উনের মতো সানগ্লাস আর ট্রেঞ্চ কোট খুঁজছে হন্যে হয়ে। তথ্য পাওয়ার সুযোগ কম থাকায় দেশের মানুষ কিম জং-উনকেই নিজেদের ফ্যাশন আইকন বানিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই। এখন সেই একই পথে তার কিশোরী মেয়েও হয়ে উঠছে দেশটির নতুন এক গ্ল্যামারাস ফ্যাশন আইকন।

Read more — আন্তর্জাতিক
Home