উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

হিজাব পরা পরীক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখার অভিযোগে শিক্ষককে উকিল নোটিশ

উত্তরা ডেস্ক ৭ মে ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
হিজাব পরা পরীক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখার অভিযোগে শিক্ষককে উকিল নোটিশ

কিশোরগঞ্জে অনার্স শেষ বর্ষের এক পরীক্ষার্থীর হিজাব পরাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার খাতা দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার শহরের পৌর মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। তার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সরকারি গুরুদয়াল কলেজ। গত ৩০ এপ্রিল ‘মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন’ বিষয়ের পরীক্ষায় ঘটে এ ঘটনা।

শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বে থাকা গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ পরান হিজাব পরিহিত দুই পরীক্ষার্থীকে মুখমণ্ডল দেখানোর নির্দেশ দেন। এ সময় সুমাইয়া একজন নারী শিক্ষক বা নারী পুলিশের উপস্থিতিতে হিজাব খোলার অনুরোধ জানান। অভিযোগে বলা হয়, এরপর শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে জোরপূর্বক তাদের হিজাব সরিয়ে দেন এবং সুমাইয়ার পরীক্ষার খাতা নিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রাখেন। এতে তার পরীক্ষায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার মামা অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন কলেজ অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সুমাইয়া আক্তার জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন বলে তিনি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সামনে আরও কয়েকটি পরীক্ষা থাকায় বিষয়টি তার মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক শাহ পরান। তার দাবি, পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের আশঙ্কা এড়াতেই নিয়ম অনুযায়ী হিজাব সরিয়ে মুখ দেখতে বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সুমাইয়া নিজেই হিজাব খুলেছেন। খাতা ১০ মিনিটের বেশি আটকানো হয়নি। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে একই কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচ এম মাহফুজ বলেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকেরা রাষ্ট্রের নির্ধারিত নিয়মের বাইরে যেতে পারেন না।

তবে তিনি বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালু হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। তিনি বলেন, ‘সিস্টেম বদলালে আমরাও বদলাবো, সম্পর্ক আরও সহজ ও আন্তরিক হবে।’

সরকারি গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিক উল্লাহ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার হলে অনিয়ম ঠেকাতে অনেক সময় পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন পড়ে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই পরীক্ষার্থীর ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ কেউ পরীক্ষার নিরাপত্তা ও নিয়ম বাস্তবায়নের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

 

Read more — শিক্ষা
Home