উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের ব্যাখ্যা

উত্তরা ডেস্ক ৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ণ
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের ব্যাখ্যা

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস. আলম গ্রুপকে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব সংবাদের প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাখ্যায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, ‘এস. আলম গ্রুপ ১৯৮৪-১৯৮৫ অর্থবছরে ব্যবসা শুরুর পর থেকে দেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং সর্বোপরি জনগণের জীবনমানের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দীর্ঘ এই পথচলায় গ্রুপটি সর্বদা দেশের প্রচলিত সকল আইন, বিধি-বিধান এবং ব্যাংকিং নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করেছে, যা সর্বজনবিদিত।

ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমরা যেসব ব্যাংকঋণ গ্রহণ করেছি তা যথাসময়ে পরিশোধ করেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণ কখনো খেলাপি হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এস. আলম গ্রুপ বারবার পরিকল্পিত অপপ্রচার, ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং বিকৃত উপস্থাপনার সম্মুখীন হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রুপটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহীন ও অসত্য অভিযোগ উত্থাপন করে বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত আমানত, ব্যবসায়িক ও ঋণ হিসাব প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা অনুসরণ না করে স্থগিত করা হয়েছে, সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, ঋণপত্র (এলসি) খোলার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, এতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি  হয়েছে।

সমষ্টিগতভাবে এসব পদক্ষেপ এস. আলম গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান।

একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পরপরই গ্রুপটির ব্যাংক ঋণসমূহকে জোরপূর্বক খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যাংককে প্রভাবিত করে অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ এস. আলম গ্রুপের নামে উপস্থাপন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে, কিছু অডিট ফার্মের মাধ্যমে মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকৃত প্রতিবেদনে প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার কাল্পনিক ঋণের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অতিরঞ্জিত।

উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহে গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত সংরক্ষিত রয়েছে, যা বর্তমানে অবরুদ্ধ। এসব ব্যাংক হিসাব সমন্বয় করে, স্থায়ী আমানত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট গ্রহণ এবং যুক্তিসঙ্গত অবকাশকালসহ ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ প্রদান করা হলে সকল ঋণ পুনরায় নিয়মিত হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহের নিকট বারবার আবেদন করা হলেও আদ্যাবধি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। উপরন্তু, কিছু ক্ষেত্রে একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়েরের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এস. আলম গ্রুপ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ প্রদান করা হলে ব্যাংক ঋণের কিস্তি যথাযথভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হবে এবং সকল ব্যাংক ঋণ দ্রুতই নিয়মিত অবস্থায় ফিরে আসবে।

ফলশ্রুতিতে উৎপাদন কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত হবে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান পুনর্বহাল হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব প্রবাহ সৃষ্টি হবে।

একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠীকে প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা বিবেচনা না করে ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে উপস্থাপন করা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে না, বরং দেশের সামগ্রিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

 

Read more — অর্থনীতি
Home