উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সমুদ্রে তেল অপসারণে আগুনের ঘূর্ণিঝড়

উত্তরা ডেস্ক ৭ মার্চ ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
সমুদ্রে তেল অপসারণে আগুনের ঘূর্ণিঝড়

সমুদ্রে তেল নিঃসরণ বা ‘অয়েল স্পিল’ বর্তমানে পরিবেশের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। এই বিপর্যয় সামাল দিতে সাধারণত ভাসমান তেলের স্তরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এতে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত ছাই বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এ সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা এখন এক অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর উপায় খুঁজে পেয়েছেন, যা হলো কৃত্রিম ‘আগুনের ঘূর্ণিঝড়’ বা ফায়ার ওয়ার্ল।

টেক্সাসের একদল গবেষক সম্প্রতি দেখিয়েছেন, নিয়ন্ত্রিত আগুনের ঘূর্ণি ব্যবহার করে সমুদ্রের তেল অনেক বেশি কার্যকরভাবে পুড়িয়ে ফেলা সম্ভব। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে একটি বড় মদের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর হ্রদের পানিতে আগুনের ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনা থেকে গবেষণার অনুপ্রেরণা পান অধ্যাপক এলাইন ওরান ও তার দল। তারা দেখেন, এই ঘূর্ণিগুলো চারপাশের ছোট আগুনগুলোকে শুষে নিয়ে দ্রুত সবকিছু পুড়িয়ে ফেলছে।

গবেষক দলটি টেক্সাসের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রায় ৫ মিটার উঁচু একটি ত্রিভুজাকার কাঠামো তৈরি করে এর ভেতরে অপরিশোধিত তেল ও পানির মিশ্রণে আগুন ধরিয়ে দেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, সাধারণ আগুনের তুলনায় এই ঘূর্ণি ৪০ শতাংশ দ্রুত তেল পুড়িয়ে ফেলে। এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা, এটি বিষাক্ত ছাই নিঃসরণ ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয় এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে ফেলে।

এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি আগুনের ঘূর্ণন গতি। সাধারণ আগুনের মতো এটি চারদিকে ছড়িয়ে না পড়ে, বরং সব দিক থেকে অক্সিজেন শুষে নেয়। ফলে এটি একটি বিশাল ইনসিনেটরের মতো কাজ করে এবং অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় তেল পুড়িয়ে ফেলে। তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। কারণ বাতাসের গতি বেশি হলে ঘূর্ণিটি ভেঙে পড়ে, আবার বাতাস কম হলে এটি সাধারণ আগুনে পরিণত হয়।

অধ্যাপক ওরান মনে করেন, সমুদ্রে ভ্রাম্যমাণ ব্যারিয়ার ব্যবহার করে এই ‘আগুনের ঘূর্ণিঝড়’ তৈরি করা বাস্তবসম্মত। এটি কেবল একটি পরীক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যতে সমুদ্র রক্ষার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ‘ফুয়েল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

 

Read more — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
Home